কড়া নিরাপত্তায় পশ্চিমবঙ্গের ১৫২ আসনে ভোটযুদ্ধ শুরু
ফাইল ছবি
কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ২৯৪ আসনে দুই ধাপে ভোট হবে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রথম দফায় ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে ভোট চলছে। বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া ভোট চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
আজ যেসব জেলায় ভোট হচ্ছে সেগুলো হলো- দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান।
দ্বিতীয় ও শেষ ধাপে ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। ৪ মে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ হবে।
প্রথম দফার ১৫২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থী। মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল ১ হাজার ৫২৫টি। সবচেয়ে বেশি ১৫ জন করে প্রার্থী রয়েছেন কোচবিহার দক্ষিণ ও ইটাহার আসনে।
নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটে কোনো ধরনের হাঙ্গামা, বুথ দখল বা জাল ভোটের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
ভোটকেন্দ্রে প্রবেশেও এবার কড়াকড়ি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভোটারদের নির্ধারিত পরিচয়পত্র দেখিয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্লিপ সংগ্রহ করে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ রাখা হবে এবং ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটার এলাকার মধ্যে আলাদা ক্যাম্প থাকবে।
নির্বাচন কমিশন সতর্ক করেছে, ভোটারদের ভয় দেখানো, বাধা দেওয়া, হামলা করা বা ভোটপ্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হবে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলাচল করতে হবে এবং রাতে মোটরসাইকেল চলাচলে কড়াকড়ি থাকবে।
এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গত মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে একাধিক জনসভায় অংশ নেন। তিনি জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগপর্যন্ত তিনি রাজ্যে থাকবেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি নিউটাউনের বিজেপি কার্যালয়ে দলের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন।
অন্যদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দফার ভোটের প্রচার শেষের প্রাক্কালে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিজেপিকে হারিয়ে তৃণমূলকে আবার ক্ষমতায় আনুন। তৃণমূলই রাজ্যে শান্তি দিতে পারবে।’
রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, লোকভবনে একটি হেল্পলাইন ডেস্ক চালু করা হয়েছে, যাতে ভোটসংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ দ্রুত জানানো যায়।
ভোটের জরিপ কী বলছে?
বিভিন্ন জনমত জরিপে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে তীব্র হবে, তা স্পষ্ট। কিছু জরিপে তৃণমূলের ভোট হতে পারে প্রায় ৪১-৪৩ শতাংশ এবং বিজেপির ৩৪-৪১ শতাংশের মধ্যে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসন পূর্বাভাস অনুযায়ী তৃণমূল ১৮৪ থেকে ১৯৪টি আসন পেতে পারে, যেখানে বিজেপি পেতে পারে ৯৮ থেকে ১০৮টি আসন। ফলে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তৃণমূলের সামনে।
মুখ্যমন্ত্রী পদে পছন্দের নিরিখেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪৬-৪৮ শতাংশ মানুষ তাকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান, যেখানে শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থন ৩৩-৩৫ শতাংশের মধ্যে।