প্রেমিকের বাসা থেকে প্রেমিকার লাশ উদ্ধার
প্রতিকি ছবি
বরিশাল নগরীতে প্রেমিকের বাসা থেকে নাসিং কলেজ শিক্ষার্থী প্রেমিকার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর নগরীর বগুড়া রোডের অক্সফোর্ড মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ৬ তলার একটি কক্ষ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনার পর শিক্ষার্থীর প্রেমিক নিখোঁজ রয়েছে।
শিক্ষার্থী হলো-সানজিদা কবির অনিতা (২২) পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার তেগাছিয়া গ্রামের মহাসিন কবির শাহিনের মেয়ে।
সরকারী একটি নাসিং কলেজ শিক্ষার্থী। নগরীর অক্সফোর্ড মিশন রোডের ইয়াসিন মঞ্জিলে বাবা-মায়ের সাথে ভাড়া থাকতো। পলাতক প্রেমিকা হলেন- ঝালকাঠির পৌর এলাকার কাটপট্টি রোডের বাসিন্দা মিল্টন আকনের ছেলে মাইনুল ইসলাম আকন হিমু (৩০)। তার মাকে নিয়ে রাফি মঞ্জিলের ৬ তলায় ভাড়া থাকতো।
হিমুর মা ফাতেমা বেগম জানান, হিমু ও অনিতার মধ্যে প্রেম ছিলো। তিনি অসুস্থ হওয়ার কারনে মেয়ের বাসায় যান। তখন প্রেমিকা অনিতা তাদের বাসায় আসে। এরপর দুপুর ১টার দিকে বাসায় এসে দরজায় তালা দেয়া দেখি।
তালা খুলে ভেতরে ঢুকতেই দেখতে পাই বিছানার ওপর অনিতার নিথর দেহ পড়ে আছে। এরপর ছেলে হিমুকে একের পর এক ফোন করলেও তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পেয়েছেন। ঘরে অনিতা এবং হিমু ছাড়া আর কেউ ছিল না বলে দাবি হিমুর মায়ের।
অনিতার বোন বলেন, আড়াই বছর ধরে বোনের সাথে হিমুর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এক থেকে দেড় মাস পূর্বে বিষয়টি জানতে পারি।
তখন হিমুর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আগের স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে। বিষয়টি বোনকে জানানোর পর সম্পর্ক থেকে সরে এসেছে।
অনিতার বোন বলেন, তিনি হোষ্টেলে থাকেন। তার মালামাল গোছানোর জন্য সকালে বাসা থেকে বের হয় অনিতা। সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তার কাছে না পৌছানোর পর খুঁজতে বের হন। দুপুরের পর বাসার নিচে হিমুর বোন ও পুলিশ দেখে উপরে উঠে অনিতার লাশ পেয়েছেন।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর লাশ পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার সাথে তার প্রেমিক জড়িত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। তাকে গ্রেপ্তারের পর বিস্তারিত বলতে পারবো।
ওসি আরো বলেন, সিআইডির একটি দলকে খবর দেয়া হয়েছে। তাদের আলামত সংগ্রহ করার পর লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে পারব।