নটরডেম কলেজে ৩ দিনের জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসব

নটরডেম কলেজে ৩ দিনের জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসব

সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিলের নটরডেম কলেজ প্রাঙ্গণে এক বর্ণিল আবহে শুরু হয়েছে ৩ দিন ব্যাপী দশম জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৬। 

‘আনন্দধারা বহিছে ভুবনে’ রবীন্দ্রনাথের এই শাশ্বত আহ্বানকে প্রতিপাদ্য করে বৃহস্পতিবার উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ ফাদার হেমন্ত পি রোজারিও। যান্ত্রিক নগরের ব্যস্ততার মাঝে শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই উৎসব চলবে আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত।

নটরডেম কালচারাল ক্লাবের আয়োজনে এবারের উৎসবে অংশ নিচ্ছে ঢাকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রতিযোগী। 

উৎসবের ব্যাপ্তি নিয়ে ক্লাবের মডারেটর ও বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মঞ্জু রশিদ যুগান্তরকে বলেন, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি প্রতিবছরই আয়োজনের পরিসর বাড়াচ্ছে। এবার আমরা প্রথমবারের মতো তৃতীয় শ্রেণি থেকে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রেখেছি। এটি আমাদের জন্য বড় একটি প্রাপ্তি।

তিন দিনের এই আয়োজনে মোট ২৬টি ইভেন্ট বা প্রতিযোগিতা রয়েছে। দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকাল থেকেই মুখর থাকবে ক্যাম্পাস। এদিন রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, লোকসংগীতসহ আধুনিক ও উচ্চাঙ্গ সংগীতের ছয়টি বিভাগে প্রতিযোগিতা চলবে। একই সঙ্গে চলবে একক ও দলীয় সৃজনশীল ও ধ্রুপদী নৃত্য। ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে যখন নৃত্য চলবে, তখন গাছের ছায়ায় বসে চলবে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।

এবারের উৎসবের বিশেষ সংযোজন হিসেবে থাকছে ‘মায়ের ভাষায় মাকে চিঠি’ লিখন প্রতিযোগিতা ও শুদ্ধ বাংলা পাঠ। এ ছাড়া কুইজ, হস্তাক্ষর, উপস্থিত বক্তৃতা, কবিতা আবৃত্তি এবং তরুণদের পছন্দের ‘কসপ্লে’ ও ‘বিটবক্স’ প্রতিযোগিতাও থাকছে এই আয়োজনে। 

সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি ইনডোরে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে চলছে একটি মেলা। প্রদর্শিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের তৈরি দেয়ালিকা ও স্ক্র্যাপবুক।

উৎসবের সমাপনী দিনে শনিবার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। সেদিন বিকেলে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হবে।

পুরো আয়োজনটি নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। মঞ্জু রশিদ জানান, ক্লাবের প্রেসিডেন্ট সাদমান শাহরিয়ার, ভাইস প্রেসিডেন্ট মুগ্ধ মজুমদার ও দেবজ্যোতি সরকারের নেতৃত্বে একদল স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থী ফান্ড সংগ্রহ থেকে শুরু করে কারিগরি সব কাজ সামলাচ্ছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি এই সৃজনশীল চর্চা তাদের দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে বলে মনে করেন আয়োজকরা।