আর্জেন্টিনার কাছে এফ-১৬ বিক্রি, যুক্তরাজ্যকে রাজি হতে বাধ্য করেছে আমেরিকা

আর্জেন্টিনার কাছে এফ-১৬ বিক্রি, যুক্তরাজ্যকে রাজি হতে বাধ্য করেছে আমেরিকা

ছবিঃ সংগৃহীত।

আর্জেন্টিনার কাছে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিক্রির ব্যাপারে অনুমতি দিতে যুক্তরাজ্যকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে এমনিটই দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিরোধের কারণে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরকে এ চুক্তির বিরোধিতা না করতে ‘স্পষ্ট ভাষায়’ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যদিও চুক্তিটি ঠেকানোর সরাসরি ভেটো যুক্তরাজ্যের ছিল না, তবুও ওয়াশিংটন ও ডেনমার্কের কাছে আপত্তি তুলে প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ ছিল।

শেষ পর্যন্ত গত বছর ডেনমার্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান গ্রহণ করে আর্জেন্টিনা- যা পশ্চিমা মিত্রদের পক্ষ থেকে বুয়েনস আইরেসকে সামরিক সহায়তার বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধের কারণে আর্জেন্টিনার কাছে অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম রফতানিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে যুক্তরাজ্য। তবুও একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চুক্তিটি সম্পন্ন করতে ব্রিটেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

একটি সূত্রের ভাষ্য, “যুক্তরাজ্যে বৈঠক হয়েছিল এবং ব্রিটেনকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল- চুক্তি এভাবেই এগোবে।

এই চুক্তিটি ২০২৪ সালে, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিয়ার স্টারমার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে সম্পন্ন হয়।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই গত বছরের ডিসেম্বরে যুদ্ধবিমানগুলো গ্রহণ করেন এবং সেগুলোকে দেশের ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে আখ্যা দেন। এর কয়েকদিন আগে তিনি ফকল্যান্ড যুদ্ধ-পরবর্তী অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করছেন বলে মন্তব্য করে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেন।

চুক্তির সময় যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে, আর্জেন্টিনাকে পশ্চিমা অস্ত্র দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ পূর্ববর্তী আর্জেন্টাইন সরকার চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছিল বলে মার্কিন পক্ষ মনে করে।

এদিকে শুক্রবার প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সমর্থন না দেওয়ায় যুক্তরাজ্যের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের দাবির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে পেন্টাগন। সম্ভাব্য শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিকল্প তালিকাও তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে বলেছে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, “ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের প্রতি যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকার অটুট।

দ্বীপবাসীরাই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন এবং তারা ব্রিটিশ হিসেবেই থাকতে চান। ”

অন্যদিকে, ফকল্যান্ড সরকারের এক মুখপাত্রও যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতির ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের অভিযোগ অস্বীকার করে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ডেনমার্ক ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অংশ হিসেবেই এফ-১৬ ক্রয় হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র কেবল সহায়তা দিয়েছে।