জেলেনস্কি থেকে শিক্ষা, ট্রাম্পের সাথে ক্যামেরার সামনে বৈঠক করতে নারাজ ব্রিটিশ রাজা!

জেলেনস্কি থেকে শিক্ষা, ট্রাম্পের সাথে ক্যামেরার সামনে বৈঠক করতে নারাজ ব্রিটিশ রাজা!

সংগৃহীত ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্রিটিশ রাজা চার্লসের আসন্ন বৈঠকটি ক্যামেরার আড়ালে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোয়াইট হাউস। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এই বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার ওভাল অফিসে এই দুই নেতার একান্ত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈঠকের শুরুতে কেবল ছবি তোলার জন্য ক্যামেরার সামনে উপস্থিত হবেন তারা, তবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বা বক্তব্য সে সময় ধারণ করা হবে না।

বর্তমানে ব্রিটেন ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কঠিন সময় পার করছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভসের করা মন্তব্যের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। এমন প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে এই রাষ্ট্রীয় সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রীরা আশা করছেন, রাজার কূটনৈতিক দক্ষতা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগ্রাসী অবস্থান কিছুটা নরম করতে সাহায্য করবে। সফরের সময় রাজার সঙ্গে থাকছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার, যিনি যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে রাজা চার্লস পরিবেশ রক্ষা এবং ইউক্রেন ইস্যুতে তার দীর্ঘদিনের অবস্থানের কথা পুনব্যক্ত করতে পারেন। যদিও ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে এসব বিষয়ের বিরোধ রয়েছে, তবে রাজা অত্যন্ত কৌশলী ও বিমূর্ত ভাষায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরবেন বলে মনে করা হচ্ছে। 

এদিকে গত সপ্তাহান্তে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে গুলিবর্ষণের ঘটনার পরও রাজার এই সফর স্থগিত করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে রাজার এই সিদ্ধান্তকে সাহসিকতার পরিচয় হিসেবে বর্ণনা করে তার প্রশংসা করেছেন। 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান