বোরো কাটার মৌসুমে বৃষ্টির হানা, বড় ক্ষতির আশঙ্কা
ফাইল ছবি
চট্টগ্রামে বোরো ধান কাটা শুরু হওয়ার মূহুর্তে বৃষ্টির হানার কারণে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। গত দুইদিনের টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে বোরো ধান ও ফসলের বেশকিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এরমধ্যে যদি বৃষ্টি থেমে যায় ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠা যাবে। তবে যদি আরো কয়েকদিন বৃষ্টি অব্যহত থাকে তাহলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কৃষ্টিতে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। যা খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি তৈরী করবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে চলতি মৌসুমে ৭০ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে ৪ হাজার ৭৭৮ হেক্টর জমির ধান ইতিমধ্যে কাটা হয়েছে। এখনো ৬৬ হাজার ১৫২ হেক্টর জমির ধান এখনো কাটা হয়নি। গত দুইদিনের বৃষ্টিতে ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ২১৫ হেক্টর বোরো ধানের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া ১২ হাজার ৩৩২ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ হয়েছে। এরমধ্যে ১ হাজার ৪৬৫ হেক্টর সবজির জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির হার এর চেয়ে কিছুটা বাড়তে পারে। এর বাইরে কালবৈশাখীর কারণেও অনেক জমির পাকা ধান নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সদ্য ফোটা আমের মুকুলও ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক আপ্রু মারমা জানান, দুর্যোগকালীন সময়ে দুই স্তরে ক্ষয়ক্ষতির হিসবে করা হয়। আপাতত গত দুইদিনের বৃষ্টির পর প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসেব নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি থামলে চুড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া যাবে। ক্ষয়ক্ষতির যে চিত্র পাওয়া গেছে সেটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। তবে বৃষ্টি যদি না থামে, আরো ২-৩ দিন টানা বৃষ্টি হয় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরো অনেক বেশি হবে। অন্তত ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
এদিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রামসহ উপক‚লীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত রেকর্ডকৃত বৃষ্টিপাতের হিসেব করে এ তথ্য জানানো হয়। বৃহস্পতিবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃষ্টির কারণে সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, মিরসরাই, রাউজান, রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় বোরো ধানের জমি পানির নিচে ডুবে গেছে। যেসব এলাকায় পাহাড়ি ঢলের আধিক্য আছে সেসব এলাকার জমিতে তুলনামূলক পানির স্তর বেশি। একারণে অনেক এলাকায় বোরো ধানের জমিতে পাকা ধানও পানির নিচে তলিয়ে আছে। এছাড়া যেসব এলাকায় সবজি চাষের আধিক্য বেশি সেসব এলাকায় সবজি চাষ হওয়া জমিও পানিতে তলিয়ে আছে। ফলে বৃষ্টি না থামলে বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।