ডায়াবেটিস রোগীরা কি নিশ্চিন্তে ফুটি খেতে পারেন

ডায়াবেটিস রোগীরা কি নিশ্চিন্তে ফুটি খেতে পারেন

ছবিঃ সংগৃহীত।

সতেজ মিষ্টি স্বাদ এবং জলীয় উপাদানের জন্য ফুটি অনেক পরিবারে গ্রীষ্মকালীন একটি প্রিয় ফল।কিন্তু যারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখেন, তাদের জন্য প্রতিটি খাবার বেছে নেওয়ার সময় রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর তার প্রভাব সম্পর্কে সতর্কভাবে বিবেচনা করতে হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন ফলের প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণের কারণে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে সব ফলই নিষিদ্ধ নয় এবং কিছু ফল পরিমিত পরিমাণে খেলে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যাঘাত ঘটে না। ফুটির পুষ্টিগুণ এবং এটি শরীরে কীভাবে প্রভাব ফেলে তা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে, ডায়াবেটিস রোগীরা কি নিরাপদে এই রসালো ফলটি তাদের খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক-

ডায়াবেটিস রোগীরা কি নিশ্চিন্তে ফুটি খেতে পারেন?

হ্যাঁ, ডায়াবেটিস রোগীরা তাদের খাদ্যতালিকায় ফুটি যোগ করতে পারেন, তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য। ফুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাঝারি, সাধারণত ৬০ থেকে ৬৫-এর কাছাকাছি, যার অর্থ হলো নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে গ্রহণ করলে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়াতে পারে। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, মাঝারি গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত ফলও সচেতনভাবে গ্রহণ করলে একটি সুষম ডায়াবেটিস খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।

ফুটিতে প্রাকৃতিক শর্করার পাশাপাশি ফাইবার, পানি এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানও থাকে, যা শর্করার শোষণকে ধীর করতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদরা হঠাৎ গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়া কমাতে এই ধরনের ফলের সঙ্গে প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর চর্বির উৎস খাওয়ার পরামর্শ দেন।

ফুটির পুষ্টিগুণ

ফুটি শুধু মিষ্টি স্বাদের জন্যই নয়, এটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানে ভরপুর যা সার্বিক স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে। এটি ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ অনুসারে, ফুটিতে ক্যালোরি কম এবং এতে প্রায় ৯০ শতাংশ পানি থাকে, যা শরীরকে সতেজ রাখে এবং ওজন কমাতে সহায়ক।

খাদ্য আঁশের উপস্থিতি হজমে সাহায্য করে এবং পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে, যা ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার জন্য উপকারী। এছাড়াও, ফুটিতে থাকা পটাশিয়াম হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কী পরিমাণ ফুটি নিরাপদ?

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে খাবারের পরিমাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বেশিরভাগ পুষ্টিবিদ একবারে এক ছোট বাটি বা প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম ফুটি খাওয়ার পরামর্শ দেন। সকালে বা দুপুরের হালকা খাবার হিসেবে এটি খাওয়া বেশি পছন্দনীয়, কারণ দিনের শুরুতে শরীর গ্লুকোজ সামলাতে বেশি দক্ষ থাকে।

একই খাবারে অন্যান্য উচ্চ চিনিযুক্ত ফলের সাথে ফুটি খাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। ফল খাওয়ার মধ্যে সময়ের ব্যবধান রাখলে সারাদিন রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিক খাদ্যতালিকায় ফুচি যোগ করার সেরা উপায়

রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ফুটি উপভোগ করার সহজ উপায় রয়েছে। একমুঠো বাদাম বা বীজের সঙ্গে এটি খেলে গ্লুকোজ শোষণ ধীর হতে পারে। এছাড়াও আপনি বেরি বা আপেলের টুকরার মতো কম গ্লাইসেমিক ফলসহ ফ্রুট সালাদে অল্প পরিমাণে এটি যোগ করতে পারেন।

ফুটির রস পান করা এড়িয়ে চলুন, কারণ রস করলে ফাইবার দূর হয়ে যায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। গোটা ফল খাওয়াই সবসময় ভালো বিকল্প। সহজ এবং প্রাকৃতিক উপায়ে প্রস্তুত করলে সর্বাধিক উপকারিতা নিশ্চিত হয়।

ডায়াবেটিস রোগীদের কখন ফুটি এড়িয়ে চলা উচিত?

যদিও পরিমিত পরিমাণে ফুটি খাদ্যতালিকায় যোগ করা যেতে পারে, তবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকার সময়ে এটি উপযুক্ত নাও হতে পারে। যদি রক্তে শর্করার মাত্রা ক্রমাগত বেশি থাকে, তবে খাদ্যতালিকায় এটি যোগ করার আগে একজন ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করাই শ্রেয়। এছাড়াও, অতিরিক্ত পরিমাণে ফুটি খাওয়া বা ডেজার্টের মতো প্রক্রিয়াজাত রূপে এটি গ্রহণ করা রক্তে শর্করার ভারসাম্যকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

পরিমিত পরিমাণে এবং সচেতনভাবে বেছে নিলে ফুটি ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যতালিকায় একটি সতেজকারক ও পুষ্টিকর সংযোজন হতে পারে।