কুড়িগ্রামের চিলমারীতে শিশুকন্যা হত্যারহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ২
প্রতিকি ছবি
কুড়িগ্রামের চিলমারীর দুই বছরের শিশু হত্যারহস্য উদঘাটন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২ আসামিকে গ্রেফতার করেছে চিলমারী থানা পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার।
এর আগে উপজেলার মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকার আলমগীর হোসেনের (৩৩) দুই বছরের শিশুকন্যা আয়েশা আক্তার আশুরা গত ১৭ এপ্রিল সকালবেলা খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে তার মরদেহ ওইদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার করা হয়। শিশু আয়েশার নির্মম মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় আয়েশার বাবা আলমগীর হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে চিলমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এরপর কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি শিশু আয়েশার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতারের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আলমের তত্ত্বাবধানে চিলমারী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ও কুড়িগ্রাম ডিবি পুলিশের একটি দল গত বৃহস্পতিবার যৌথ অভিযানে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি কোহিনুর বেগম (২৬) ও তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেলকে (৩০) গ্রেফতার করে।
উক্ত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তদন্তে জানা যায়, ভিকটিম আয়েশা আক্তার পাশের বাসায় আসামি কোহিনুর বেগমের ছেলের সঙ্গে খেলার সময় কলম দিয়ে চোখে আঘাত পায় এবং রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এ সময় ভিকটিম চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে আসামি কোহিনুর বেগম ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে এবং এর ফলে ভিকটিম নিস্তেজ হয়ে মৃত্যুবরণ করলে তাকে প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে রাখে। পরবর্তীতে রাত হলে ও বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে পাশের জমিতে ফেলে রাখে।
গ্রেফতারকৃত আসামি কোহিনুর বেগম ও রাশেদুল ইসলমাম আপেলকে শুক্রবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে আসামি কোহিনুর বেগম দায় স্বীকার করে স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার ও উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চিলমারীতে শিশু হত্যার ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্র পুলিশ দ্রুততম সময়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন ও মূল ঘাতকদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।