খুকৃবিতে ফাইনাল পরীক্ষায় পরিকল্পিতভাবে অনুপস্থিত ২৭ শিক্ষার্থীই ফেল
ফাইল ছবি
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) ফিশারিজ অ্যান্ড ওশান সায়েন্সেস অনুষদের ২৭ শিক্ষার্থী একটি পরীক্ষায় পরিকল্পিতভাবে অনুপস্থিত থাকায় তাদের ফলাফলে ফেল দেখানো হয়েছে। একসঙ্গে এতজন শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতিকে নজিরবিহীন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধিমালার লঙ্ঘন বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, বিশেষ ব্যবস্থায় তারা নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবেই স্পেশাল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এতে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
গত ৩০ এপ্রিল ফিশারিজ অ্যান্ড ওশান সায়েন্সেস অনুষদের লেভেল-৪, সেমিস্টার-২ এর চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। ৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ‘ফিশ হেলথ ম্যানেজমেন্ট’ পরীক্ষায় বিভাগের ২৭ শিক্ষার্থী একযোগে অনুপস্থিত থাকায় ফলাফলে তাদের ফেল দেখানো হয়।
একাধিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাহসিনা আনোয়ার শর্মী নামে এক শিক্ষার্থী পরীক্ষার আগের দিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সহপাঠীরা পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানায়। তবে কর্তৃপক্ষ সেই দাবি নাকচ করে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে।
সূত্রমতে, প্রশাসনের এ অবস্থানের পর শিক্ষার্থীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। কিছু শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও অন্যরা বয়কটের পথে যায়। অভিযোগ রয়েছে, বয়কটকারী শিক্ষার্থীরা অন্যদেরও পরীক্ষায় অংশ না নিতে উদ্বুদ্ধ করে এবং পরীক্ষার দিন কেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান নিয়ে আগ্রহীদের প্রবেশে বাধা দেয়। এ ঘটনায় বিভাগের ভেতরের কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বুঝতে পেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। ২৬ এপ্রিল অসুস্থ শিক্ষার্থী শর্মী এবং ২৭ এপ্রিল বিভাগের দুই শ্রেণী প্রতিনিধি শর্মী ও তারেক উপাচার্যের কাছে লিখিতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং রিপিট ছাড়া নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ চান।
রিজওয়ান মিরাজ নামে এক শিক্ষার্থী দাবি করেন, এর আগে এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ায় পরীক্ষার তারিখ পিছিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তারা ভেবেছিলেন, একযোগে অনুপস্থিত থাকলেও সমস্যা হবে না। তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগও তোলেন।
এ বিষয়ে অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মাদ আসাদুজ্জামান মানিক বলেন, “ওইদিন তার পরীক্ষার দায়িত্ব ছিল। নির্ধারিত সময়ের প্রথম দুই ঘণ্টায় কোনো শিক্ষার্থী কেন্দ্রে উপস্থিত হয়নি। পরে জানা যায়, কেউ কেউ আসতে চাইলেও বাধার মুখে পড়েছিল”
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী নতুনভাবে রেজিস্ট্রেশন করে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে এবং দ্রুতই এ পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। এতে তাদের ফলাফলে প্রভাব পড়বে না।