ইসলামের আগে কেমন ছিল তালাক প্রথা?
প্রতীকী ছবি।
বিবাহ-বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের ইতি টানা আধুনিক কোনো আবিষ্কার নয়; বরং ইসলামের আগমনের আগেও বিশ্বজুড়ে এর ব্যাপক প্রচলন ছিল। তবে তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় বিচ্ছেদ মানেই ছিল নারীর ওপর চরম অবিচার এবং পুরুষের একক স্বেচ্ছাচারিতা। ইতিহাস পর্যালোচনায় সেই যুগের অন্ধকার দিকগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
১. আরবে পুরুষের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা
ইসলাম-পূর্ব আরবে বিবাহ-বিচ্ছেদ ছিল সম্পূর্ণ পুরুষতান্ত্রিক। স্বামী সামান্য অজুহাতে বা রাগবশত স্ত্রীকে ঘরছাড়া করতে পারত। সেখানে বিচ্ছেদের কোনো আইনি নিয়ম বা সামাজিক দায়বদ্ধতা ছিল না। সবচেয়ে অমানবিক দিক ছিল খোরপোশের অভাব। তালাকপ্রাপ্তা নারীকে কোনো পাওনা বা ভরণপোষণ দেওয়া হতো না; বরং শূন্য হাতে তাকে স্বামীর ঘর থেকে বিদায় নিতে হতো।
২. গ্রিক সভ্যতার অবাধ চর্চা
জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত দাবিদার গ্রিকদের মাঝেও দাম্পত্য সম্পর্কের কোনো স্থায়িত্ব ছিল না। সেখানে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই যখন-তখন সম্পর্ক ভেঙে ফেলা হতো। বিচ্ছেদের জন্য কোনো শর্ত বা বিধিনিষেধ না থাকায় পরিবারগুলো ছিল অত্যন্ত ভঙ্গুর।
৩. রোমানদের বিচিত্র দৃষ্টিভঙ্গি
রোমান সভ্যতায় বিবাহ-বিচ্ছেদকে বিয়ের একটি অপরিহার্য অংশ মনে করা হতো। অদ্ভুত বিষয় হলো, কোনো দম্পতি যদি আজীবন বিচ্ছেদে না যাওয়ার শর্তে বিয়ে করত, তবে আদালত সেই বিয়েকেই অবৈধ ঘোষণা করত। প্রথম দিকে কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠীতে বিচ্ছেদ নিষিদ্ধ থাকলেও সেখানে স্বামীর ক্ষমতা ছিল এতটাই যে, সে স্ত্রীকে হত্যার পর্যন্ত অধিকার রাখত। পরবর্তীতে তারা বিচ্ছেদকে ধর্মীয়ভাবে বৈধতা দেয়, যা মূলত বিশৃঙ্খলাকেই উসকে দিয়েছিল।
৪. নারীর অধিকারহীনতা
সব মিলিয়ে ইসলাম-পূর্ব বিশ্বে বিচ্ছেদ ছিল নারীর জন্য এক আতঙ্কের নাম। সম্মান, সম্পদ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা—সবক্ষেত্রেই নারী ছিল বঞ্চিত ও পদদলিত। মূলত বিচ্ছেদকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে পুরুষ তার আধিপত্য টিকিয়ে রাখত।
তৎকালীন এই চরম বিশৃঙ্খল ও অমানবিক প্রেক্ষাপটেই ইসলাম বিবাহ-বিচ্ছেদকে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও ন্যায়সংগত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসে। ইসলাম বিচ্ছেদকে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি এর জন্য কঠোর শর্তারোপ করে এবং নারীর মোহরানা ও ভরণপোষণের অধিকার সুনিশ্চিত করে দাম্পত্য জীবনে ভারসাম্য রক্ষা করে।