পদ্মায় ডুবে গেল ভুট্টাবোঝাই ২ ট্রলার
সংগৃহীত
কালবৈশাখী ঝড়, বৈরি আবহাওয়া ও প্রবল ঝড়বৃষ্টির কবলে পড়ে পদ্মা নদীতে ভুট্টাবোঝাই দুটি ট্রলার ডুবে গেছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১০টার দিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকস্মিক ঝড়ো হাওয়ায় নদীতে তীব্র ঢেউয়ের সৃষ্টি হলে ট্রলার দুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার সময় নদীর পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী সাগর মোল্লা বলেন, চোখের সামনেই ভুট্টাবোঝাই ট্রলারটি ডুবে গেল। কিছুক্ষণ আগেই একটি ট্রলার তলিয়ে যায়, এরপর আরেকটি ট্রলারও ডুবে যায়। ট্রলারটি রক্ষার জন্য মালিক আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। দীর্ঘক্ষণ জীবনযুদ্ধ চালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, নিজের ট্রলার বাঁচাতে গিয়ে একজন ব্যক্তি উত্তাল নদীতে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা টর্চলাইটের আলো ও মোবাইল ক্যামেরার জুম ব্যবহার করে তাকে খোঁজার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি কোনোভাবে তীরে উঠতে সক্ষম হন এবং স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।
পাটুরিয়া নৌ থানার ওসি কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, ভুট্টাবোঝাই দুটি ট্রলার পদ্মা নদীতে ডুবে গেছে। এ ঘটনায় কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে দুর্ঘটনা এড়াতে সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়। পরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হয়।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন বলেন, প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টির কারণে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার বলেন, দুর্ঘটনার খবর সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরে দ্রুত দেকতে গিয়েছি। নৌ পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হয়েছি, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের বা নিখোঁজের ঘটনা ঘটেনি।
তিনি আরও বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসেছি। দুটি ট্রলার ডুবে গেছে। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।