নিহত কাস্টমস কর্মকর্তার পরিবারের পাশে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী

নিহত কাস্টমস কর্মকর্তার পরিবারের পাশে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী

সংগৃহীত

কুমিল্লায় ছিনতাইকারীদের হাতে নিহত কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।

শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে কুমিল্লা নগরীর পানপট্টি এলাকায় ওই কর্মকর্তার ভাড়া বাসায় গিয়ে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, 'কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিষয়টি আমি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছি এবং প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করায় র‍্যাব সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই।'

সাংসদ আরও জানান, নিহতের স্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহায়তার আবেদন করেছেন। ইতোমধ্যে সরকার থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বুলেট বৈরাগীর পূর্ণ বেতন তাঁর স্ত্রীকে প্রদান করার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা এসেছে। পাশাপাশি নিহতের পরিবারের স্থায়ী নিবাসের ব্যবস্থা এবং তার স্ত্রীর চাকরির বিষয়েও ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে মনিরুল হক চৌধুরী তাদের কুমিল্লাতেই অবস্থান করার অনুরোধ জানান এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নিহতের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন বুলেট বৈরাগী। রাত ২টা ২৫ মিনিটে সর্বশেষ পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানান, টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন। এরপর তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকালে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার একটি হোটেলের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার হিসেবে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পরিবারে স্ত্রী, বাবা-মা ও এক বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।