রামুতে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

রামুতে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের রামু উপজেলার চা বাগানের গহীন অরণ্যে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রামু থানার মামলার তদন্তে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. শওকত জামিল।

গ্রেপ্তাররা হলেন— উখিয়ার হলুদিয়াপালং ইউনিয়নের পাগলিরবিল এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দু শুক্কুর (৩৮), রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ছাদিরকাটা এলাকার সৈয়দ আকবরের ছেলে গুরা মনিয়া (২২) এবং উখিয়ার পাগলির বিল এলাকার ইদ্রিস ভান্ডারীর ছেলে হোছেন (১৯)।

পুলিশ জানায়, গত ৮ মে থেকে ৯ মে পর্যন্ত রামু ও উখিয়া থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে প্রধান আসামি আব্দু শুক্কুরকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভিকটিম শামসুল আলম (৫১)-এর অটো মিশুক গাড়ি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে আসামিরা। তারা কক্সবাজার সদর এলাকা থেকে মালামাল আনার কথা বলে ১ হাজার ২০০ টাকায় গাড়িটি ভাড়া করেন।

পরে কৌশলে তাকে রামু থানাধীন জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রামু রাবার বাগান কারখানার পেছনের নির্জন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যান।

সেখানে অটো মিশুকের চাবি চাইলে শামসুল আলম বাধা দেন। একপর্যায়ে আসামিরা তার সঙ্গে থাকা গামছা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মরদেহের মুখে মাস্ক লাগিয়ে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে অটো মিশুক নিয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশ আরো জানায়, হত্যার পর গাড়িটি উখিয়ার মরিচ্যা এলাকার একটি ইটভাটার পাশে রেখে দেওয়া হয়। পরদিন ১১ মার্চ কোটবাজার এলাকায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির কাছে অটো মিশুকটি ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় আসামিরা। পরে বিক্রির টাকা তিনজন সমান ভাগে ভাগ করে নেয়।

রামু থানার ওসি তদন্ত মো. ফরিদ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ছিনতাইকৃত অটো মিশুক গাড়ি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।