সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার চেষ্টায় অনেকে লিপ্ত- ধর্মমন্ত্রী
ছবিঃ সংগৃহীত।
দেশে এখন অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়েকোবাদ) বলেছেন, সরকারকে কীভাবে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা যায়, সেই চেষ্টায় অনেকে লিপ্ত।
সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলি বিরোধী দল সরকারের জন্য একটা আলাদা রহমত। কারণ বিরোধী দল সরকারের সবকিছুর ভুলকে ধরিয়ে দিতে চেষ্টা করে। কিন্তু আজকাল তো সরকারের ভুল ধরিয়ে দিতে চেষ্টা করে না। আজকের বিরোধী দল অতীতেও দেখেছি, এখনও দেখছি— তারা সরকারকে কীভাবে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলবে সেই চেষ্টায় অনেকে লিপ্ত, সবাই নয়।’
তিনি বলেন, 'এখন অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। অনেকেই সহ্য করতে পারছে না যে তারেক রহমান সাহেব প্রথমবার এমপি হলেন, প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হলেন, হয়ে উনি এত কাজ করছেন, এত ভালো কাজ করছেন, উনি এত পরিশ্রম এত সকাল থেকে রাত্রে ১২টা পর্যন্ত— এটা অনেকেই সহ্য করতে পারছে না।'
'এজন্য আপনাদের (সাংবাদিক) চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে। যারা গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করতে চায়, তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।'
কারা সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার চেষ্টা করছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা সরকারের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি, তারা সবাই।
অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার সরকার যে আইনটা করেছিল, আইনটা (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) কিন্তু ভালো ছিল। কিন্তু, আইনটাকে অপপ্রয়োগ করা হয়েছে। যারা তাদের মতের পক্ষে ছিল না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু আইনটা যদি অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতো, তাহলে কিন্তু আইনটা খুব ভালো ছিল। এই আইনটাকে আমরা যে বাতিল করেছি।'
'বাতিল করে কিন্তু তাদেরকে সুযোগ করে দিয়েছি, ওই সব অখাদ্য-কুখাদ্যদের সুযোগ করে দিয়েছি, অন্যায়-অত্যাচার-অবিচার-জুলুমকারীদের সুযোগ করে দিয়েছি। একটা ভালো মানুষকে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছি আমরা।'
মন্ত্রী বলেন, 'এই জন্য আমি মনে করি, যেহেতু আমরা স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী, ওই আইনটা প্রয়োজন অন্য আঙ্গিকে। যাতে করে একজন সাংবাদিক ভাই সত্য প্রচার করাতে তার বিরুদ্ধে দেখেছে লেগে যায়, তার বেগম বাসায় গেলে বলে ফেসবুকে কী এলো ওইটা আপনার বিরুদ্ধে। কিন্তু এটা ডাহা মিথ্যা। কেন ফেইসবুকে লিখেছে? যেহেতু উনি সত্য ঘটনাটা প্রকাশ করেছে এই জন্য লিখেছে। এই জন্য আমি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলতে চাই, ওই আইনটা প্রয়োজন আমাদের সমাজে।'
অনেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখা, ঈদ পালন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে থাকেন। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, 'আসলে দেখেন, আমরা যারা মুসলমান, আমরা দুইটা জিনিস ফলো করি— একটা হলো কোরআন, আরেকটা হলো হাদিস। এর বাইরে কোনো কিছু আমরা বিশ্বাস করি না এবং ফলোও করি না। আল্লাহর রসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা যে প্রান্তে যে অবস্থায় থাকো চাঁদ দেখে রোজা রাখো আর চাঁদ দেখে রোজা ভাঙো। এটা বলে নাই যে আমার জন্মস্থান সৌদি আরবে যেদিন ঈদ করবে ওইদিন তোমরা ঈদ করো— একথা কিন্তু কখনও বলেনি। উনি পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, চাঁদ দেখে রোজা রাখো, চাঁদ দেখে রোজা ভাঙো। এটা কিছু অতি উৎসাহী লোকজন আছেন। এটা থাকবেই, কেয়ামত পর্যন্ত এটা থাকবে। এতে কোনো বড় ধরনের কোনো কিছু ঘটনা ঘটবে না, ইনশাল্লাহ।'
তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষের আলাদাভাবে ইজতেমা করা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, 'ব্যাপার হয়েছে কী, ওনারা কী চান? আল্লাহর রাসূল (স.) বলেন, তোমার শরীরের একটা অংশে যদি আঘাত লাগে তুমি যেমনটা অনুভব করো সারা শরীরে, আমার মুসলমান ভাইদের মধ্যে কেউ যদি যে কোনো জায়গায় আঘাতপ্রাপ্ত হলে তুমি তেমনটা অনুভব করো। এখন ওনারা যদি না বুঝেন, কারণ আল্লাহর রাসূল (স.) তো মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি চাননি।'
শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, ‘এখানে দুই পক্ষ যদি মিলে চলে আমি খুব খুশি হব। আগের মতো অবস্থানে যদি চলে আমি খুব খুশি হব। কিন্তু এটা ওনাদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে ওনারা কী করবেন। সরকার, কারণ একটা জিনিস হলো কী একজনকে জোর করে রাজি করানো যায়? জোর করে রাজি করানো যায় না। উদ্দেশ্য ভালো থাকলে তখন সম্ভব হয়। এখানে এক পক্ষকে আরেক পক্ষ সহ্য করতে পারতেছে না। আল্লাহ পাক ওনাদেরকে এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিক। আল্লাহ ওনাদেরকে মিলার ব্যবস্থা করে দিক এবং একটা সুন্দর আগের মতো যেন অবস্থানে থেকে ওনারা তাবলীগের কাজগুলো করতে পারেন। এই দোয়া।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।