হামাস যোদ্ধাদের প্রকাশ্য বিচার ও মৃত্যুদণ্ডে ইসরায়েলের নতুন আইন পাস
সংগৃহীত ছবি
ইসরায়েলে পরিচালিত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর নজিরবিহীন হামলার সাথে জড়িতদের বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে একটি নতুন আইন পাস করেছে দেশটির সরকার। ইসরায়েলের সংসদ ‘নেসেট’-এ ৯৩-০ ভোটে বিলটি পাস হয়। সরকার ও বিরোধী দল যৌথভাবে এই ঐতিহাসিক বিলটি উত্থাপন করেছিল।
নতুন এই আইনের অধীনে জেরুজালেমে একটি বিশেষ সামরিক আদালত গঠন করা হবে।
সেখানে আটককৃত হামাসের বিশেষ বাহিনী ‘নুখবা’ ইউনিটের সদস্যদের বিচার করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, যৌন সহিংসতা ও গণহত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
বিলটির প্রস্তাবক ইউলিয়া মালিনোভস্কি বলেন, ‘সবাই দেখুক ইসরায়েল তার ক্ষতিসাধনকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে জানে।
’ অনেক ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ এই বিচারকে ১৯৬২ সালের নাৎসি অপরাধী অ্যাডলফ আইখম্যানের বিচারের সাথে তুলনা করছেন। আইখম্যানই ছিলেন ইসরায়েলি বেসামরিক আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র ব্যক্তি। তবে এই বিশেষ আইনের বিরোধিতা করেছে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তাদের মতে, এটি একটি ‘লোকদেখানো বিচার’ হতে পারে।
‘ইসরায়েলে নির্যাতন বিরোধী গণকমিটি’ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, আটকদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে এবং তার ভিত্তিতেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
৭ অক্টোবরের হামলায় স্বজন হারানো অনেক পরিবার এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও তাদের মনে কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন রয়ে গেছে। এলাদ কাটজির নামক এক নিহতের বোন কারমিত পাল্টি কাটজির বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের বিচারের পাশাপাশি এই ট্র্যাজেডি কিভাবে ঘটল এবং কারা এর জন্য দায়ী, সেই উত্তরগুলোও আমাদের পাওয়া প্রয়োজন।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলায় ১,২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর জবাবে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ গাজাবাসীকে এই হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে ফৌজদারি আসামি হিসেবে আটক রাখা হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি