বাঘায় আগুনে শেষ কৃষকের সহায়-সম্বল, হাসপাতালে স্ত্রী

বাঘায় আগুনে শেষ কৃষকের সহায়-সম্বল, হাসপাতালে স্ত্রী

প্রতিকি ছবি

 

রাজশাহীর বাঘায় আগুনে কৃষক মামুন হোসেনের তিনটি বসতঘর, ধান-গম ও গরু-ছাগল পুড়ে গেছে। এ সময় ঘরের মালামাল রক্ষা করতে গিয়ে স্ত্রী এলিচ বেগম দগ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।  

গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের মহদীপুর সবজিপাড়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দরিদ্র কৃষক মামুন হোসেন নাটোর জেলায় শ্রমিকের কাজে আছেন। বাড়িতে তার স্ত্রী ছিলেন। গোয়ালে থাকা গরু বিক্রি করে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন ছিল তার। সারা বছরের খাবারের জন্য ঘরে মজুত করেছিলেন ধান ও গম।

কিন্তু আগুন মুহূর্তেই সব শেষ করে দিয়েছে।

আগুনে তিনটি বসতঘর, আসবাব, ২০ মণ ধান, ১৬ মণ গম এবং গোয়ালে থাকা চারটি গরু দগ্ধ হয়। এ সময় একটি গরুর বাছুর আগুনে পুড়ে মারা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না।

মামুনের স্ত্রী বড় ছেলেকে গাড়িতে তুলে দিতে পার্শ্ববর্তী হাব্বুরের মোড়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে লোকমুখে বাড়িতে আগুন লাগার খবর জানতে পারেন তিনি।

প্রথমে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে মোবাইল ফোনে বাঘা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে তার আগেই ঘরবাড়ি ও মালামাল পুড়ে যায়।

মামুন হোসেনের বড় ছেলে ইমন আলী বলেন, ‘আমি কাজের উদ্দেশে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। পরে ফোন পেয়ে বাড়ি ফিরে দেখি সবকিছু আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। কিছুই অবশিষ্ট নেই। ’

বাঘা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে প্রায় আট লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শুকনো খাবার, কয়েকটি কম্বল ও নগদ ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে টিনের জন্য আবেদন করতেও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে আজ মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে যান রাজশাহী-৬ আসনের এমপি আবু সাইদ চাঁদ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।