জাপানে আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে ভাল্লুকের হামলা, জনপ্রিয় হচ্ছে রোবট নেকড়ে
ছবিঃ সংগৃহীত।
জাপানে আশঙ্কাজনক হারে ভাল্লুকের হামলা বেড়ে যাওয়ায় এখন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে 'রোবট নেকড়ে'।গত বছর দেশটিতে ভাল্লুকের আক্রমণে রেকর্ড সংখ্যক প্রাণহানির পর ওহতা সেইকি নামক একটি জাপানি প্রতিষ্ঠান এই বিশেষ যান্ত্রিক নেকড়ে (মনস্টার উলফ) তৈরি করছে। বর্তমানে এর চাহিদা এতোটাই বেড়েছে যে কোম্পানিটি সময়মতো সরবরাহ দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
হোক্কাইডো ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ বছর ইতিমধ্যেই তারা প্রায় ৫০টি অর্ডার পেয়েছে, যা সাধারণত সারা বছরের মোট অর্ডারের চেয়েও বেশি।
হাতে তৈরি এই রোবটগুলো পেতে গ্রাহকদের এখন দুই থেকে তিন মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মূলত খামারি, গলফ কোর্সের পরিচালক এবং গ্রামাঞ্চলে কর্মরত নির্মাণ শ্রমিকরাই এই রোবট নেকড়ের প্রধান ক্রেতা। গত কয়েক বছরে জাপানে ভাল্লুকের আনাগোনা এবং মানুষের ওপর হামলার ঘটনা কয়েক গুণ বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি ভাল্লুক দেখার ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩ জন।
মনস্টার উলফ মূলত একটি অ্যানিমেটনিক কাকতাড়ুয়া, যার চোখ থেকে লাল আলো নির্গত হয় এবং এটি ভয়ংকর গর্জন করতে পারে। কৃত্রিম পশমে আবৃত এই রোবটটি পাইপ ফ্রেমের ওপর বসানো এবং এতে রয়েছে উন্নত মানের স্পিকার ও সেন্সর। প্রায় ৪ হাজার ডলার বা তার বেশি মূল্যের এই যন্ত্রটি ব্যাটারি ও সোলার প্যানেলের মাধ্যমে চলে। এটি নেকড়ের ডাক ছাড়াও মানুষের কণ্ঠস্বরসহ প্রায় ৫০ ধরনের শব্দ তৈরি করতে পারে যা এক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায়।
রোবটটি ডানে-বামে মাথা নাড়াতে পারে এবং এর লেজে নীল রঙের এলইডি বাতি ব্যবহার করা হয়েছে।
২০১৬ সালে প্রথম যখন বন্যপ্রাণীর হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে ওহতা এই পণ্যটি বাজারে আনে, তখন অনেকেই একে কেবল একটি খেলনা বা সস্তা চটকদার বস্তু হিসেবে উপহাস করেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়ায় মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে।
কোম্পানিটি এখন এই রোবটটিকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা করছে। তারা এমন মডেল তৈরির কাজ চালাচ্ছে যা চাকার সাহায্যে প্রাণীদের ধাওয়া করতে পারবে অথবা নির্দিষ্ট পথে টহল দিতে সক্ষম হবে।
এছাড়া হাইকার এবং স্কুলপড়ুয়া শিশুদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এর পোর্টেবল বা হাতে বহনযোগ্য সংস্করণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরা যুক্ত করার বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।