“মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি পর্যালোচনা নয়, বাতিল করতে হবে”
প্রতীকী ছবি।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে প্রণীত ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি’ পর্যালোচনা নয়, বাতিল চায় গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। অধিকার কমিটির এক সাধারণ সভায় সদস্যরা এই চুক্তিকে ‘বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
এই চুক্তি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা অস্পষ্ট ও পাশ কাটানো বক্তব্য দিচ্ছেন দাবি করে অধিকার কমিটি অবিলম্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি, সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী দেশবিরোধী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করার দাবি জানায়।
গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকার তোপখানা রোডের একটি ভবনে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির এই সাধারণ সভা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভার আলোচনার বিষয়ে জানানো হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহের উর রহমান গত বুধবার বলেছেন, মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল নয়, পর্যালোচনার পক্ষে তিনি।
গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের সমালোচনা করা হয়েছে অধিকার কমিটির সভায়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অতীতের মতোই, দেশি-বিদেশি গোষ্ঠীর মুনাফার স্বার্থে যথাযথ সমীক্ষা ও পরিণতি বিবেচনা ছাড়াই পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মতো বিপুল ব্যয়বহুল ও পরিবেশগত ঝুঁকিপূর্ণ মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
গত শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ দুজন বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বাংলাদেশ সরকারকে সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।
হাম পরিস্থিতি সম্পর্কে অধিকার কমিটির সভায় বলা হয়েছে, হামে আক্রান্ত শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ৪৫০ ছাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সভা থেকে স্বাস্থ্য খাতে জরুরি অবস্থা ঘোষণাসহ হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভা থেকে সারা দেশে চলমান নারী-শিশু নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় অধিকার কমিটির গতকালের ওই সভায়। তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অঞ্চলে ঘরে-বাইরে নারী ও শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। সভা থেকে নারী-শিশু নির্যাতন বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বিনা বিচারে ৭০০ দিনের বেশি সময় ধরে আটক বম সম্প্রদায়ের সদস্যদেরও মুক্তি দাবি করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। একই সঙ্গে ঝুলে থাকা ত্বকী, তনু, সাগর-রুনি ও মুনিয়া হত্যার বিচারকাজ অগ্রসর করা এবং বিনা বিচারে ভুয়া বা প্রতিহিংসামূলক মামলায় আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে তারা। কমিটির গতকালের সভায় মাজার, মন্দির, বাউল আখড়া, ভাস্কর্যে হামলা-ভাঙচুরে দায়ী ব্যক্তিদেরও বিচার দাবি করা হয়।
অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন এর সদস্য হারুন উর রশীদ, মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, নাজমুস সাকিব, দীপা দত্ত, অনুপ কুমার কুণ্ডু, রাফিকুজ্জামান প্রমুখ। মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে আগামী ৭ জুন পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি ঠিক করা হয় সভায়।