আরজি কর কাণ্ডে তিন আইপিএস কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
ফাইল ছবি
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে রাজ্যের তিন আইপিএস কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) নবান্ন থেকে এ ঘোষণা দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি জানান, বহুল আলোচিত আরজি কর কাণ্ডের তদন্ত-সংক্রান্ত ফাইল পুনরায় খোলা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হবে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্ত। এ ছাড়া সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।
২০২৪ সালের আগস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটে। সে সময় বিনীত গোয়েল কলকাতা পুলিশের কমিশনার ছিলেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হলে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে।
পরবর্তীতে জুনিয়র চিকিৎসকদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে তাকে কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিচালক (এডিজি) পদে বদলি করা হয়। বর্তমানে তিনি রাজ্যের ডিজি (আইবি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিষেক গুপ্ত বর্তমানে ইএফআরের কমান্ড্যান্ট পদে কর্মরত। তার পদমর্যাদা ডিআইজি। অন্যদিকে ইন্দিরা বর্তমানে সিআইডির স্পেশাল সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, আমি স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্ব নেওয়ার পর চিফ সেক্রেটারি এবং হোম সেক্রেটারির কাছে আরজি কর কাণ্ডের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছিলাম। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা কীভাবে বিষয়টি পরিচালনা করেছিলেন, তা পর্যালোচনা করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কললিস্ট, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং তৎকালীন প্রশাসনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হবে। কোনো রাজনৈতিক নির্দেশনা ছিল কি না, সেটিও তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দিয়েছিলেন যে আরজি কর মামলার তদন্ত নতুন করে শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়ে পানিহাটি থেকে বিধায়ক হয়েছেন নির্যাতিতার মা।
বুধবার তিনি আদালতে গিয়ে তিনজনের গ্রেফতারের দাবি জানান। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন পানিহাটির তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দাস ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়।
সূত্র: আনন্দবাজার