৮ বছর পর বিশ্বকাপে পানামা, লক্ষ্য চমক দেখানো
সংগৃহীত ছবি
আট বছর পর আবারও ফুটবল বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে পানামা। ২০১৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ওঠা দলটি এবার শুধু অংশগ্রহণ করতেই নয়, নিজেদের সামর্থ্য দেখাতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দলের কোচ থমাস ক্রিস্টিয়ানসেন।
কঠিন বাছাইপর্ব পেরিয়ে উত্তর ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চলের সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী দল হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে পানামা। বাছাইপর্বের দ্বিতীয় ধাপে নিকারাগুয়া, গায়ানা, মন্টসেরাত ও বেলিজকে হারিয়ে শতভাগ সাফল্য নিয়ে গ্রুপসেরা হয় তারা। ওই পর্বে ১০ গোল করার বিপরীতে মাত্র একটি গোল হজম করে দলটি।
পরবর্তী ধাপে সুরিনাম, গুয়াতেমালা ও এল সালভাদরের সঙ্গে কঠিন লড়াইয়ে পড়ে পানামা। প্রথম চার ম্যাচ শেষে মাত্র ছয় পয়েন্ট থাকলেও শেষ দুই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। গুয়াতেমালাকে ৩-২ গোলে হারানোর পর শেষ ম্যাচে এল সালভাদরকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে পানামা।
এর আগে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম আসরে বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড ও তিউনিসিয়ার কাছে হেরে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফেলিপে বালয়ের করা গোলটি এখনো পানামার বিশ্বকাপ ইতিহাসের একমাত্র গোল হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
গত কয়েক বছরে দলটি উত্তর ও মধ্য আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালের গোল্ড কাপ এবং ২০২৫ সালের নেশনস লিগের ফাইনালে খেলেছে পানামা। বর্তমানে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ৩৩তম।
বিশ্বকাপে এবার কঠিন গ্রুপে পড়েছে পানামা। ‘এল’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, গত আসরের তৃতীয় স্থান পাওয়া ক্রোয়েশিয়া এবং আফ্রিকার শক্তিশালী দল ঘানা।
পানামার গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলো হবে— ১৭ জুন: ঘানার বিপক্ষে, ২৩ জুন: ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ও ২৭ জুন: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে
দলের কোচ থমাস ক্রিস্টিয়ানসেন ২০২০ সাল থেকে পানামার দায়িত্বে আছেন। তার অধীনেই দলটি ধারাবাহিক উন্নতি করেছে। ডেনমার্কে জন্ম নেওয়া এই কোচ খেলোয়াড়ি জীবনে স্পেনের বয়সভিত্তিক ও মূল দলে খেলেছেন।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে হোসে ফাহার্দো ও পুমা ছিলেন দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এছাড়া সেসিলিও ওয়াটারমান, আদালবের্তো কারাসকিয়া, আনিবাল গোদয় ও আমির মুরিল্লোর মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের ওপরও ভরসা করছে দলটি।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে পানামা। এছাড়া ৩১ মে ব্রাজিলের বিপক্ষেও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা।
কোচ ক্রিস্টিয়ানসেন জানিয়েছেন, শুধু সান্ত্বনার গোল করে উদযাপন করতে আর চায় না পানামা। বড় দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করে নিজেদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় তার দল।