রামগঞ্জে গ্রাম আদালতে ২৫ মাসে ৮৮৬ মামলার নিষ্পত্তি

রামগঞ্জে গ্রাম আদালতে ২৫ মাসে ৮৮৬ মামলার নিষ্পত্তি

সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা গ্রাম আদালতের কো-অর্ডিনেটর মো. বজলুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল ভূঁইয়া, সমাজসেবা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন এবং মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিউলি আক্তার।

কর্মশালায় বক্তারা জানান, গ্রাম আদালতে অত্যন্ত অল্প খরচে এবং স্বল্প সময়ে গ্রামীণ ছোটখাটো বিরোধ ও বিবাদ মীমাংসা করা হয়। মাত্র ১০ টাকায় ফৌজদারি এবং ২০ টাকায় দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে এখানে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা মূল্যমানের বিরোধও এ আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব।

আলোচকরা আরও জানান, গ্রাম আদালতে কোনো আইনজীবীর প্রয়োজন হয় না, ফলে বাদী-বিবাদী নিজেই নিজ নিজ বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন। উভয়পক্ষই প্রতিনিধি মনোনয়নের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পান।

এছাড়া সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় নতুন কোনো শত্রুতা বা দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় না, বরং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী- বিশেষ করে নারী, প্রতিবন্ধী, সুবিধাবঞ্চিত, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের জন্য গ্রাম আদালত সহজ ও দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

কর্মশালায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রামগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মিলিয়ে মোট ৯১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৮৬টি মামলার সফল নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

এছাড়াও রামগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু তাহের, স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা, ইমাম, শিক্ষক এবং ইউনিয়ন পরিষদের সচিবরা কর্মশালায় অংশ নেন।