টেকনাফে অপহৃত ৬ ব্যক্তি উদ্ধার, কিয়াটসহ নারী গ্রেফতার

টেকনাফে অপহৃত ৬ ব্যক্তি উদ্ধার, কিয়াটসহ নারী গ্রেফতার

ফাইল ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে এক বাংলাদেশিসহ ৬ জনকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১৫। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন। 

এ সময় সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের এক নারী সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মিয়ানমারের মুদ্রা কিয়াট জব্দ করা হয়েছে।

রবিবার বিকেলে র‌্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক আ ম ফারুক এ তথ্য জানান।

র‌্যাব জানায়, রবিবার একটি আভিযানিক দল টেকনাফ বাজারের শাপলা চত্বরে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গোদারবিল এলাকার বাসিন্দা মো. আলী আজগরের বাড়িতে কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে আটকে রেখেছে মানবপাচারকারীরা।

চক্রটি ভিকটিমদের সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচার এবং পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে সেখানে জিম্মি করে রাখে বলে জানায় র‌্যাব। এ সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় ঘটনাস্থল থেকে চক্রের এক নারী সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে মানবপাচারের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মূল্যমানের মোট এক লাখ ৫১ হাজার ৬০০ কিয়াট জব্দ করা হয়।

অভিযানে পাচারকারীদের কবল থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, উখিয়ার যুগল বড়ুয়া এবং বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হুসাইন আহম্মেদ (২০), কামাল হোসেন (১৮), আয়েশা (১৬), শুভ তারা (১৪) ও সাদেক (৯)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যুগল বড়ুয়া জানান, গত ২২ মে সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং এলাকা থেকে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করে চক্রের সদস্যরা। পরে তাকে ওই আস্তানায় নিয়ে আটকে রাখা হয়।

র‌্যাব আরও জানায়, অন্যান্য ভিকটিমদেরও বিভিন্ন স্থান থেকে ফুসলিয়ে কিংবা অপহরণ করে সেখানে আনা হয়েছিল। পরে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ না দিলে তাদের সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচার করার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

মুক্তিপণের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ভুক্তভোগী কামাল হোসেনকে শারীরিক নির্যাতন করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয় বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের দাবি, গ্রেফতার নারী সদস্য ও পলাতক অন্য আসামিরা অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের মতো অপরাধে জড়িত। তারা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের যোগসাজশে বাংলাদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে।  

এ ঘটনায় গ্রেফতার নারী সদস্যসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে মানবপাচার দমন ও প্রতিরোধ আইনে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।