বোয়ালখালীতে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, ৩ জন আটক

বোয়ালখালীতে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, ৩ জন আটক

প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কারখানার তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত যুবকের নাম আছমত আলী (৩২)। তিনি পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লাখেরা এলাকার ইয়াকুব আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৪ মে) ভোর রাতে বোয়ালখালী-পটিয়া সীমান্তবর্তী শাকপুরা মিলিটারি ব্রিজ সংলগ্ন বিসমিল্লাহ ফেব্রিকস কারখানার টিনের চালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন আছমত আলী।

এসময় কারখানার নিরাপত্তাকর্মী ও দায়িত্বরত লোকজন তাকে আটক করে। পরে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা বলেন, রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়।

হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

এদিকে, ঘটনার পর রবিবার রাতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর নিহতের স্বজনদের মাঝে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, চুরির অভিযোগ থাকলেও কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অধিকার নেই। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে কারখানার দায়িত্বরত মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ, সহকারী জেনারেল অ্যাডমিন হাফেজ মো. মনিরুল ইসলাম এবং ডিউটি ইনচার্জ আমির হোসেনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

অপরদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন সাম্প্রতিক সময়ে চোর সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনসাধারণকেও আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।