পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে আইএলও’র প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
সংগৃহীত ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত আইএলও (আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা) কান্ট্রি অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টিউনন ও আইএলও প্রতিনিধি দল এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।
রবিবার (২৪ মে) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, আইএলও’র সিনিয়র প্রগ্রাম অফিসার এএনএম তানজেল আহসান এবং এলেক্সিয়াস চিকাম।
সাক্ষাৎকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কর্তৃক রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলো পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সংগতি রেখে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্যবিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার বদ্ধপরিকর।
মন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ নতুন করে পুনর্গঠন করা হলে আইএলও’র এই জনকল্যাণমূলক কাজগুলো তিন জেলা পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে আরো গতিশীলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
অতীতে বাস্তবায়িত সকল কার্যক্রমের জন্য আইএলও প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী ভবিষ্যৎ দিনগুলোতে পার্বত্য চট্টগ্রামের এই অঞ্চলের মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি, কৃষি ও জীবিকার সুরক্ষায় আরো নিবিড়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টিউনন পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিসত্ত্বা মানুষের অধিকার রক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ফোকাল মিনিস্ট্রি হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (মোচটা) ধারাবাহিক ও নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
টিউনন জানান, আইএলও কনভেনশন নং ১০৭-এর ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২২-২০২৬) ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কৌশলগত পরিকল্পনার আলোকে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পার্বত্য অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা গড়ে তোলা, পরিবেশ রক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নয়ন এবং নারীদের জন্য উদ্যোক্তা সহায়তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
জাতীয় অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সংগতি রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামে সামাজিক ন্যায়বিচার ও শোভন কাজের সুযোগ সৃষ্টিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সমন্বয় আরো জোরদার করতে আইএলও উন্মুখ বলে প্রতিনিধি দল আশাবাদ ব্যক্ত করেন।