সিরিয়ায় আসাদের গোপন রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির নতুন প্রমাণ উদ্ধার

সিরিয়ায় আসাদের গোপন রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির নতুন প্রমাণ উদ্ধার

বাশার আল-আসাদ

সিরিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের গোপন রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির নতুন প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বর্তমান সরকার। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ শেষে আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে রাসায়নিক অস্ত্র, কাঁচামাল এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম পাওয়া গেছে, যা অতীতের প্রাণঘাতী গ্যাস হামলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থায় সিরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ কাতুব জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে জড়িত সন্দেহে ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সামরিক, রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাও রয়েছেন। কয়েকজন আসাদ সরকারের জ্যেষ্ঠ জেনারেল ছিলেন। তদন্ত চলমান থাকায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আটককৃতদের অন্তত চারজন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার মধ্যাঞ্চল ও উত্তর উপকূলীয় অঞ্চলের একাধিক অঘোষিত স্থানে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু রাসায়নিক অস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। সেখানে আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা, রকেট, রাসায়নিক পদার্থ এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি পাওয়া গেছে।

যৌথ অভিযানে ৭০টির বেশি রকেট ও বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি সারিন গ্যাস তৈরির কাঁচামালও পাওয়া গেছে। এই গ্যাস ২০১৩ সালে দামেস্কের ঘুতা এবং ২০১৭ সালে আল-লাতামিনাহ এলাকায় হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল, যেখানে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়।

তিনটি স্থানে হেক্সামিন নামে একটি রাসায়নিক পাওয়া গেছে, যা সারিন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া রাসায়নিক মিশ্রণ ও সংরক্ষণের যন্ত্রপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।

কাতুব বলেন, বড় ঝুঁকি ও গোপনীয়তার মধ্যেও এই অভিযান সফল হয়েছে। তার মতে, এসব উপাদান নিরাপদে সংরক্ষণ করা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক। সিরিয়াজুড়ে এখনো প্রায় ১০০টি স্থানে পরীক্ষা চালানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা।