এবার বালেন শাহর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল নেপাল

এবার বালেন শাহর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল নেপাল

ছবিঃ সংগৃহীত।

বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে নেপালে ফের আন্দোলন শুরু হয়েছে। যুবসমাজের মধ্যে বাড়তে থাকা হতাশাকে কেন্দ্র করে কাঠমান্ডুর রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা।আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর পদত্যাগের দাবি তোলা হয়েছে। আন্দোলন ঘিরে গত ৩ দিনে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরো একজন।

জেন-জি নেপাল সংগঠনের দাবি, বালেন শাহ সরকার জনবিরোধী ও স্বৈরাচারী শাসন চালাচ্ছে। সংগঠনের দাবি, সাম্প্রতিক বাজেট ও সরকারি নীতিতে যুবকদের কর্মসংস্থান বা আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের মতো কোনো বাস্তব পদক্ষেপ দেখা যায়নি। দেশের যুবসমাজের কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা নেই।

ঘটনার সূত্রপাত:

কাঠমান্ডুতে গত সপ্তাহে পুলিশের চাকা লক করার ঘটনায় নিজের শরীরে আগুন দেন ২৫ বছর বয়সী এক রাইড-শেয়ারিং চালক। এতে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করেই নেপালে নতুন করে জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র (বালেন) শাহ নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গণেশ নেপালি নামের ওই চালক বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুর একটি সড়কে যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় পুলিশ এসে হঠাৎ তার মোটরসাইকেলের চাকায় লক লাগিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবাদের মরিয়া পদক্ষেপ হিসেবে তিনি নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শুক্রবার তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর দীর্ঘদিনের সরকারি নীতি ও প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

দেশটির তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি (Gen Z) নাগরিকরা, আবারও কাঠমান্ডুর রাস্তায় নেমে ঘটনার জবাবদিহি দাবি করছেন। মাত্র এক বছরেরও কম সময় আগে বিপুল সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হওয়া সরকারের কাছে তারা এর দায় নির্ধারণের আহ্বান জানাচ্ছেন।

রোববার রাজধানীর সিংহদরবার সচিবালয়ের সামনে শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘গরিবের ওপর নির্যাতন বন্ধ করো’ এবং ‘মানবাধিকারকে সম্মান করো’। বিক্ষোভকারীরা অবৈধ গ্রেপ্তার বন্ধ এবং বালেন শাহ প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে বাস্তুচ্যুত বস্তিবাসীদের জন্য আশ্রয়েরও দাবি জানান।

বালেন শাহর কঠোর অবস্থান

নেপালি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বালেন্দ্র শাহ কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মহানগর পুলিশের কঠোর অভিযান বেড়েছে। তার প্রশাসন বিশেষ করে ফুটপাত ও অনানুষ্ঠানিক বাজার উচ্ছেদ এবং নদীর তীরবর্তী বস্তি সরিয়ে দেওয়ার নীতির জন্য পরিচিত।

এসব উচ্ছেদ অভিযান বহুবার সহিংস সংঘর্ষের জন্ম দিয়েছে এবং শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি প্রশাসনের আচরণ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট আইন বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে জানায়, স্থানীয় প্রশাসন তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে একটি সহায়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে কার্যত জাতীয় পুলিশ বাহিনীর মতো বলপ্রয়োগকারী সংস্থায় পরিণত হয়েছে।