ঈদুল আজহার দিনটি যেভাবে কাটাবেন

ঈদুল আজহার দিনটি যেভাবে কাটাবেন

ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। ঈদুল ফিতরের দুই মাস ১০ দিন পর বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে প্রস্তুতি নেন। সেই অতুলনীয় ত্যাগের স্মৃতি স্মরণে ঈদুল আজহা পালিত হয়। পশু কোরবানি এবং আর্তমানবতার সেবার মধ্য দিয়ে এই উৎসবের মূল চেতনা ফুটে ওঠে।

ঈদুল আজহার তাৎপর্য-
আরবি আজহা শব্দের অর্থ হলো কোরবানি বা উৎসর্গ। জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সামর্থ্যবান মুসলমানরা এই দিনে পশু কোরবানি করেন। 

ঈদুল আজহা উদযাপনের ধাপ ও নিয়মাবলি-
১. কোরবানির পশু সংগ্রহ ও যত্ন
সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। উট, গরু, মহিষ, ছাগল বা ভেড়া দিয়ে কোরবানি করা যায়। কোরবানির বেশ কিছুদিন আগেই পশু কেনা উত্তম এবং জবেহ করার আগ পর্যন্ত পশুকে যথাযথ খাবার ও যত্ন দেওয়া জরুরি। একা কোরবানি দেওয়া সম্ভব না হলে একটি গরু বা উটে সর্বোচ্চ সাতজন শরিক হতে পারেন।

২. সঠিক নিয়ম জানা
কোরবানির পশুর প্রতি যেন কোনো অবিচার না হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত। এর মধ্যে রয়েছে দিনের আলোতে জবেহ করা, ধারালো ছুরি ব্যবহার করা যেন পশুর কষ্ট কম হয় এবং পশুকে কিবলামুখী করে শোয়ানো। জবেহ করার সময় বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার পাঠ করা এবং পশুর রক্ত পুরোপুরি ঝরানো নিশ্চিত করতে হয়।

৩. ঈদের নামাজ 
ঈদের দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে পরিষ্কার বা নতুন পোশাক পরে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নত। ফজর নামাজের পর দুই রাকাত ঈদের ওয়াজিব নামাজ ও খুতবা পাঠ করা হয়। নামাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় উচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করা মুস্তাহাব।

৪. পশু জবেহ বা কোরবানি
ঈদের নামাজ শেষে ঘরে ফিরে কোরবানি সম্পন্ন করতে হয়। মুসলিম দেশগুলোতে সাধারণত জনসমাগমস্থলে বা যেকোনো জায়গায় পশু জবেহ করা হলেও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী প্রধান দেশে নির্ধারিত স্থানে অনুমতি সাপেক্ষে কোরবানি দেওয়া হয়।

৫. আপ্যায়ন ও আহার
ঈদুল আজহার দিনে প্রথম খাবার হিসেবে কোরবানির গোশত খাওয়া ইসলামের একটি রীতি। এদিন বাড়িতে হরেক রকমের মুখরোচক গোশতের পদ রান্না করা হয় এবং মেহমানদের আপ্যায়ন করা হয়।

৬. আত্মীয় ও প্রতিবেশীর হক
কোরবানির গোশত আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করা ইসলামের উদারতার প্রতীক। ঈদের তিন দিনব্যাপী এই গোশত বিতরণের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়।

৭. গরিব-দুঃখীদের সহায়তা
কোরবানির একটি বড় অংশ হলো দান ও সদকা। ইসলামী বিধান অনুযায়ী কোরবানির গোশতের তিন ভাগের এক ভাগ গরিব ও অভাবী মানুষদের মধ্যে বণ্টন করে দিতে হয়। এর মাধ্যমে সমাজের সবার মধ্যে ঈদের খুশি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।