কঙ্গোতে বিদ্রোহীদের হামলায় ৩০ জনের বেশি নিহত

কঙ্গোতে বিদ্রোহীদের হামলায় ৩০ জনের বেশি নিহত

ছবিঃ সংগৃহীত।

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলে টানা কয়েক দিনের বিদ্রোহী হামলায় ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।এই সহিংসতা চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

হামলার জন্য ইসলামিক স্টেট-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘অ্যালাইড ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস’ (এডিএফ)-কে দায়ী করা হয়েছে। বুধবার ভোরে মাতেতে, মামুলি ও কিতোহো গ্রামে হামলা চালিয়ে অন্তত ১০ জনকে হত্যা করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীরা ঘরবাড়ি ও মোটরসাইকেলে আগুন দেয় এবং বহু মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এর আগে শনিবার রাতে বেনি শহরে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়। এতে ২০ জনের বেশি নারী, পুরুষ ও শিশু নিহত হন। অনেককে গুলি করে হত্যা করা হয়, আবার কাউকে কাউকে শিরশ্ছেদ করা হয়।

আতঙ্কে শত শত মানুষ ঘর ছেড়ে জঙ্গলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। পুরো এলাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে উত্তর কিভু, দক্ষিণ কিভু ও ইতুরি প্রদেশে ইবোলার ৩৪৪টি সংক্রমণ এবং অন্তত ৬০ জনের মৃত্যুর ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, কারণ হামলার পর বেনির চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ইবোলায় আক্রান্ত তিনজন রোগী পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন প্রাদেশিক গভর্নর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহিংসতার কারণে মানুষ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি খুব বেশি। পালিয়ে যাওয়ার সময় স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হয় না, ফলে রোগ সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। স্বাস্থ্যকর্মীরাও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক এলাকায় কাজ করতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়ছেন।

২০১৪ সাল থেকে এডিএফের হামলায় প্রায় ১০ হাজার সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে স্থানীয় নাগরিক সংগঠনগুলো। কঙ্গো সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এডিএফ দমনে অভিযান চালানোই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও সতর্ক করেছে, চলমান সহিংসতার মধ্যে ইবোলা প্রতিরোধ কার্যক্রম চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সংঘাত না থামলে রোগ নিয়ন্ত্রণ আরও জটিল হয়ে উঠবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।