যাত্রী ওঠার আগেই দুর্ঘটনা, মাটিতে আছড়ে পড়ল বোয়িং ৭৮৭-এর সামনের অংশ
ছবিঃ সংগৃহীত।
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে পার্কিং অবস্থায় থাকা একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারের নোজ ল্যান্ডিং গিয়ার ধসে পড়ায় লুফথানসার কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পর নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। খবর এপির।
লুফথানসা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেসগামী নির্ধারিত ফ্লাইটের যাত্রী বোর্ডিং শুরুর আগেই বিমানটির সামনের অংশ হঠাৎ মাটিতে আছড়ে পড়ে।
সে সময় বিমানে কেবল ক্রু সদস্য ও গ্রাউন্ড স্টাফরা ছিলেন।
বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই সঙ্গে ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে লুফথানসা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি মাত্র এক বছরের কিছু বেশি পুরোনো।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে এটি লুফথানসার বহরে যুক্ত হয়। ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্যিক সেবা শুরু করার পর থেকে বিমানটি ১৩৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
ঘটনার বিষয়ে বোয়িং জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং গ্রাহক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করছে। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিমানটির সামনের চাকা সামনের দিকে সরে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে নোজ অংশ কয়েক মিটার নিচে নেমে মাটিতে আছড়ে পড়ে।
এ সময় কাছাকাছি অবস্থান করা এক গ্রাউন্ড ক্রু সদস্য দ্রুত সরে যান। আঘাতের ফলে নোজ গিয়ার বগির দরজাও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফেডারেল বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী জেফ গুজেত্তি বলেন, স্থির অবস্থায় থাকা একটি বিমানের নোজ ল্যান্ডিং গিয়ার ধসে পড়া “অত্যন্ত অস্বাভাবিক” ঘটনা। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
তার মতে, সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে ল্যান্ডিং গিয়ারের পূর্ববর্তী ক্ষতি, যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত সমস্যা থাকতে পারে।
গুজেত্তি বলেন, তদন্তকারীরা বিমানটির রক্ষণাবেক্ষণ ইতিহাস, বিভিন্ন সিস্টেমের রেকর্ড এবং পূর্ববর্তী অবতরণের তথ্য খতিয়ে দেখবেন। পাশাপাশি নোজ ল্যান্ডিং গিয়ারের প্রতিটি অংশ বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হবে।
এর আগে ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরেও বোয়িং ৭৮৭-এর নোজ ল্যান্ডিং গিয়ারসংক্রান্ত একটি ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় রক্ষণাবেক্ষণের সময় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলাকালে বিমানটির নোজ গিয়ার ভাঁজ হয়ে যায় এবং সামনের অংশ মাটিতে পড়ে যায়। তদন্তে দেখা যায়, নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত একটি লকিং পিন ভুল স্থানে বসানো হয়েছিল।
বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার একটি প্রশস্ত দেহের (ওয়াইড-বডি) দ্বৈত করিডরবিশিষ্ট বিমান, যা মূলত দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহৃত হয়। ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো এটি বাণিজ্যিক সেবায় যুক্ত হয়। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় জড়িত সংস্করণটিতে বিন্যাসভেদে সর্বোচ্চ ২৯৬ জন যাত্রী বহন করা সম্ভব।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বোয়িং ৭৮৭ কর্মসূচি উৎপাদন ত্রুটি ও মান নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়ে। এসব কারণে একাধিকবার বিমানটির সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল।