ম্যারাডোনার বিশ্বজয় বন্দি করা ছবিয়ালের ফ্রেমে ‘ভাইকিং’ হলান্ডরা

ম্যারাডোনার বিশ্বজয় বন্দি করা ছবিয়ালের ফ্রেমে ‘ভাইকিং’ হলান্ডরা

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৮ বছর পর আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে নরওয়ে। আর এই প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন এমন এক ব্যতিক্রমী ফটোশুটের আয়োজন করেছে, যা দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে এটি কোনো ঐতিহাসিক ভাইকিং চলচ্চিত্রের দৃশ্য। তবে বাস্তবে এটি ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া নরওয়ে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের আনুষ্ঠানিক দলীয় ছবি।

বিশ্বকাপে ফেরার আনন্দকে নিজেদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিয়ে বিশেষভাবে তুলে ধরেছে নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)। মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশে তোলা ছবিগুলোতে দেখা যায়, দেশের ২৬ জন ফুটবলার ভাইকিং যোদ্ধাদের অনুপ্রেরণায় তৈরি পোশাক পরে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের পেছনে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী দীর্ঘ ভাইকিং জাহাজ, উঁচু পাথুরে পর্বত এবং সরু উপসাগরের মনোরম দৃশ্য।

বর্ম, গোলাকার ঢাল এবং প্রাচীন অস্ত্রের প্রতিরূপে সাজানো এই আয়োজন নরওয়ের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি দলের নতুন অভিযাত্রার প্রতীক হিসেবেও কাজ করেছে। যেন বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে একদল নর্স যোদ্ধা নতুন যুদ্ধে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ছবিটির কেন্দ্রে বিশেষভাবে স্থান পেয়েছেন দলের দুই বড় তারকা অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড এবং স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড। বর্তমান নরওয়ে দলের সোনালি প্রজন্মের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত এই দুই ফুটবলারকে ভিন্নধর্মী উপস্থাপনায় দেখানো হয়েছে। ওডেগার্ডকে একজন শান্ত ও দূরদর্শী নেতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে হলান্ডের দীর্ঘকায় গঠন ও স্বর্ণালি চুল ছবিতে এক আদর্শ ভাইকিং যোদ্ধার আবহ তৈরি করেছে।

ইউরোপের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় দলের জন্য একটি শক্তিশালী ও স্মরণীয় পরিচয় গড়ে তুলতেই এই ফটোশুটের পরিকল্পনা করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নরওয়েতে ভাইকিং ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও গর্ব বেড়েছে। সেই সাংস্কৃতিক আবেগকেই ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে এনএফএফ।

এই বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় খ্যাতিমান ফটোগ্রাফার ডেভিড ইয়ারোকে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তিনি পরিচিত ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়াগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ট্রফি হাতে থাকা ছবি তোলার জন্য। জানা যায়, হলান্ডের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

ফটোশুট নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ইয়ারো বলেন, তিনি সবসময় মানুষকে প্রচলিত ধারণার বাইরে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করেন। তাঁর ভাষায়, ভাইকিংদের সমুদ্রযাত্রা ও অভিযানের চেতনাকে আধুনিক ফুটবল দলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও এটি নিয়ে কিছু সমালোচনা হতে পারে, তবু তিনি ভিন্নধর্মী একটি গল্প বলতেই এই ধারণা বেছে নিয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ফটোশুটের দিন দলের একমাত্র অনুপস্থিত খেলোয়াড় ছিলেন মার্টিন ওডেগার্ড। সে সময় তিনি ক্লাব ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ব্যস্ত ছিলেন। পরে তাঁর আলাদা ছবি তুলে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে মূল দলীয় ছবিতে যুক্ত করা হয়।

বিশ্বকাপে ফেরার এই বিশেষ মুহূর্তে নরওয়ে শুধু একটি ফুটবল দল হিসেবেই নয়, বরং নিজেদের সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়কে বিশ্বের সামনে নতুনভাবে তুলে ধরার সুযোগও কাজে লাগিয়েছে।