বালুমহলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী নিহত
প্রতীকী ছবি
নাটোর, রাজশাহী ও কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীর চর এলাকায় বালুমহলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে আজিজুল হক ওরফে ঝড়ু মাস্তান (৩২)নামে এক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকালে লালপুর উপজেলার চরজাজিরা এলাকায় পদ্মা নদীর কিনারার একটি স্পিডবোটের ভেতর থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আজিজুল হক ওরফে ঝড়ু মাস্তান নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের পাবনাপাড়া গ্রামের আব্দুল শেখ ও হাসিনা বেগমের ছেলে এবং আওয়ামী লীগের পতনের আগ পর্যন্ত তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সক্রীয় কর্মী বলে এলাকায় বহুল পরিচিত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ভোর ৬টার মধ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানা ও রাজশাহীর বাঘা থানার সীমান্তবর্তী হবিরচর এলাকায় বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেলাল গ্রুপ ও কাকন গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই সংঘর্ষে ঝড়ু মাস্তান গুলিবিদ্ধ হন। এরপর কে বা কারা তাকে একটি স্পিডবোটে করে মঙ্গলবার বিকালে লালপুর থানার চরজাজিরা মৌজার পদ্মা নদীর কিনারায় রেখে যায়, তা জানা যায়নি।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে স্পিডবোটের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, নিহতের বাম চোখের উপরের অংশে গুলির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গুলিটি মাথার ওপরের অংশ দিয়ে বের হয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আজিজুল ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। সম্প্রতি তিনি পদ্মার চরাঞ্চলের একটি বালুমহলে কাজ নেন। মঙ্গলবার সকালে এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। পরে ওই প্রতিবেশী বাড়িতে কাফনের কাপড়ও পৌঁছে দেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
সংবাদ পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানা পুলিশ এবং লক্ষীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত আজিজুল হক ঝড়ু– চারঘাট এলাকার কাকন গ্রুপের একটি বালু পয়েন্টে কাজ করতেন। বালুমহলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ বেলাল গ্রুপের সঙ্গে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশ নিহত আজিজুল হকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে।