জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, গ্রেফতার ৩
প্রতিকি ছবি
জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, জাল নথি ব্যবহার এবং অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। এর আগে রবিবার বিকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন মাঞ্জুর প্রধানিয়া (৩৫), মো. ওসমান গনি (২৫) এবং কাজী মো. আতা-ই-রাব্বি (২৮)।
সিআইডি জানায়, জর্ডানের আম্মানে অবস্থিত ‘জেরাশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড’-এর নাম, লোগো ও সিলমোহর জাল করে প্রতিষ্ঠানটি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করছিল।
জর্ডানে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে অভিযোগ জানালে বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেলের নজরে আসে।
পরে সিআইডি এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, ‘সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডারস’ একটি ট্রাভেল এজেন্সি হলেও তাদের কোনো বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই।
তা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুকের মাধ্যমে জর্ডান, সৌদি আরব, সার্বিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠানোর বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছিল। অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় থেকে ৫৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ১৬টি বিদেশগমন-সংক্রান্ত চুক্তিপত্র, দুটি সিপিইউ এবং একটি ডিভিআর জব্দ করা হয়। জব্দ করা পাসপোর্টগুলোর মধ্যে ১৮টি জর্ডানে এবং বাকিগুলো সৌদি আরবে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে, বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা হচ্ছিল।
এটি অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশে সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ-২০২৬-এর ১৫ ও ২০ ধারায় বাড্ডা থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার তিনজন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান।