জি-৭ সম্মেলনে ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র দেওয়ার অঙ্গীকার

জি-৭ সম্মেলনে ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র দেওয়ার অঙ্গীকার

ছবিঃ সংগৃহীত।

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইউক্রেনকে আরও বেশি অস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স) এবং দূরপাল্লার সামরিক সক্ষমতা। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য এখন উপযুক্ত সময় এসেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সাত শিল্পোন্নত দেশ।

জি-৭ নেতারা এসব তথ্য দিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন বলে বুধবার (১৭ জুন) সংবাদ প্রকাশ করেছে ইউরো নিউজ।

জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর নেতারা গত দুই দিন ধরে ফ্রান্সের এভিয়ান শহরে বৈঠক করছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে তারা একটি যৌথ বিবৃতিতে ইউক্রেনের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার প্রচেষ্টার প্রতি অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেন যে নতুন গতি অর্জন করেছে, তার প্রশংসা করা হচ্ছে এবং গতি ধরে রাখতে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক (ইন্টারসেপ্টর) এবং দূরপাল্লার সামরিক সক্ষমতা সরবরাহ করা হবে।

২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় সমর্থন দিয়েছে ইউরোপ। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনকে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ইউরো সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। এছাড়া আরও ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ সহায়তা এ মাস থেকেই প্রদান শুরু হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সহায়তার পরিমাণ প্রায় ১১৫ বিলিয়ন ইউরো।

জি-৭ নেতারা আরও বলেছেন, ইউক্রেনের জন্য সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের লাইসেন্স সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করতে তারা প্রস্তুত। বিশেষ করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জরুরি প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কিয়েভ।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ প্রেক্ষাপটে তেল ও গ্যাস খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরও শক্তিশালী করা হবে।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেবে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য সম্পাদিত একটি কাঠামোগত চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন এরই মধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ২১টি নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। সর্বশেষ প্যাকেজে মস্কোর তেল বিক্রি এবং তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

জি-৭ নেতাদের বিবৃতিতে ইউক্রেনের জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে। আগামী শীতে দেশটিকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর মূল কারণ রাশিয়া সাধারণত তীব্র শীতের সময় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।