“যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ‘গেম চেঞ্জার’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে”
ছবিঃ সংগৃহীত।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হতে যাওয়া সমঝোতা চুক্তি অঞ্চলটির পাশাপাশি বিশ্ব রাজনীতিতেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।
বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সের এভিয়ান শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের তৃতীয় দিনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কার্নি জানান, সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ নেতাদের সঙ্গে ইউক্রেন ও লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে উৎসাহব্যঞ্জক আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তার মতে, ওয়াশিংটন এখন যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে আরও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জোরদার করা এবং ইউক্রেনকে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জি-৭ নেতারা লেবানন পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির বিষয়ে ৬০ দিনের আলোচনাপ্রক্রিয়া শুরু হবে।
তবে দক্ষিণ লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে ইসরায়েলের নতুন হামলা এই সমঝোতা ঘিরে তৈরি হওয়া আশাবাদে কিছুটা ভাটা ফেলেছে।
এ প্রসঙ্গে কার্নি বলেন, হ্যাঁ, ঝুঁকি রয়েছে। হ্যাঁ, চুক্তিটি বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে এতগুলো দেশ এর প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এর ইতিবাচক প্রভাব অন্য ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জি-৭ নেতারা মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট ‘অগ্রগতি ও নতুন সুযোগকে’ স্বাগত জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি দেশটির আঞ্চলিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র-সংক্রান্ত হুমকি মোকাবিলার ক্ষেত্রে একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ তৈরি করেছে।
সূত্র: এএফপি