বরিশালে আট মাসে নতুন ৩০ জন এইচআইভি আক্রান্ত শনাক্ত
সংগৃহীত
গত আট মাসে বরিশাল বিভাগে নতুন করে ৩০ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। বুধবার বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ জাতীয় এইডস/এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়।
কর্মশালায় হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ও সেন্টার ম্যানেজার মাশরুর বিন আজাদ হিমেল জানান, বর্তমানে বরিশাল বিভাগে মোট ১৮৫ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৮ জন সমকামী, ৫৪ জন সাধারণ জনগোষ্ঠীর সদস্য, স্বামীর মাধ্যমে আক্রান্ত ২৬ জন গৃহবধূ, ২১ জন প্রবাসী, তিনজন যৌনকর্মী, একজন ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী এবং একজন হিজড়া রয়েছেন।
তিনি জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ১৪১ জন পুরুষ এবং ৪৪ জন নারী। এ পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং চারজন অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছেন।
মাশরুর বিন আজাদ হিমেল আরও বলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ২০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হলেও ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মাত্র আট মাসে ৩০ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। নতুন শনাক্তদের মধ্যে সমকামী ১৯ জন, স্বামীর মাধ্যমে আক্রান্ত চারজন গৃহবধূ, তিনজন সাধারণ নাগরিক, দুইজন প্রবাসী এবং একজন পুরুষ যৌনকর্মী রয়েছেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দূর করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষাও নিশ্চিত করা সম্ভব।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. এ কে এম নজমূল আহসান, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাহমুদ হাসান এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. কামরুজ্জামান।
বক্তারা এইচআইভি-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, মানবাধিকারসম্মত ভাষা ব্যবহার এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সমাজে এইচআইভি সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা ও কুসংস্কার দূর করতে গণমাধ্যমকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।