আদিতমারীতে গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলা: কারাগারে ১০

আদিতমারীতে গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলা: কারাগারে ১০

প্রতিকি ছবি

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে শিশু নন্দিনী হত্যাকাণ্ডের জেরে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ভেলাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার শুরু হয় গত সোমবার (১৬ জুন)।

উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী রাণী নিখোঁজ হয়। পরদিন একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে বিধান চন্দ্র বর্মণের বাড়িতে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালায়। তারা বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং আত্মগোপনে থাকা বিধানকে আটক করে।

পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ জনতা বিধান চন্দ্র বর্মণের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। একই দিন সন্ধ্যায় হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন বিধান চন্দ্র বর্মণ (২৫) ও তার বাবা রণজিৎ চন্দ্র বর্মণকে (৪৮) আটক করে থানায় নেওয়ার সময় জনতা তাদের পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং জেলা প্রশাসকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চারটি সরকারি যানবাহন ভাঙচুর করে। এতে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিবসহ ৩৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। দুটি মামলায় অজ্ঞাতনামা প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব বলেন, ‘সরকারি কাজে বাধা প্রদান, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১০ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।