জৌলুস হারাচ্ছে মেহেরপুর পৌর পশুহাট

জৌলুস হারাচ্ছে মেহেরপুর পৌর পশুহাট

সংগৃহীত ছবি

একসময় জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ছিল মেহেরপুর পৌর পশুর হাট। হাটের দিনে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর থাকত পুরো এলাকা। কিন্তু অব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে হাটটির চিরচেনা সেই জৌলুস।

মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের পাশে প্রায় ৯ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই হাট প্রায় অর্ধশত বছরের ঐতিহ্যবাহী। একসময় জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পশু বেচাকেনার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে হাটের বড় একটি অংশ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গার সংকট তৈরি হয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক ব্যবসায়ী সড়কের ওপর পশু ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে বসছেন, যা যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। বছরের পর বছর পরিষ্কার না করায় বিভিন্ন এলাকাজুড়ে ঘন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। এসব জঙ্গল থেকে প্রায়ই বিষধর সাপ ও বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড় বের হয়ে আসছে। অন্যদিকে সামান্য বৃষ্টিতেই হাটের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে, সৃষ্টি হয় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, জলাবদ্ধতা ও জায়গা সংকটের কারণে অনেক ব্যাপারী বিকল্প হাটে চলে যাচ্ছেন। গবাদি পশু ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হাটে মানুষ দাঁড়ানোর জায়গা পায় না। গরু রাখার জায়গা নেই, গাড়ি রাখার জায়গা নেই। এমন অবস্থায় হাটটি ধীরে ধীরে অচল হয়ে যাচ্ছে।’

ব্যাপারী মল্লিক শেখ বলেন, এই হাটে কোনো আধুনিক শৌচাগার নেই, নেই বিশ্রামাগার কিংবা নিরাপদ বসার ব্যবস্থা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রাকৃতিক কাজ সারতে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের মসজিদে যেতে হয়। এতে নিজেদের পশু বা মালামাল ফেলে যেতে অনেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় হাটে অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার নির্মিত কিছু দোকানঘর বর্তমানে সুইপার ও মাদকসেবীদের দখলে রয়েছে। সেখানে নিয়মিত মাদকসেবীদের আড্ডা বসায় হাটের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সাধারণ মানুষ সেখানে যেতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন।

হাটের ইজারাদার কামরুজ্জামান বাবু বলেন, ‘একসময় এই পশুর হাটের নাম সারা বাংলাদেশে ছিল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে আসতেন। কিন্তু এখন দিন দিন হাটটি অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। পৌর কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে একসময় পৌরসভা এই হাট থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয়ও হারাবে।’

মেহেরপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা) বলেন, ‘পৌর পশুর হাটের উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে এডিবির বরাদ্দ পাওয়া গেছে। হাটকে আধুনিক ও কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।’