২৭ বছরের পুরোনো মামলায় তিন সাবেক কর্মকর্তার ৪৪ বছরের কারাদণ্ডাদেশ
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ বোর্ড (বিটিটিবি) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের ২৭ বছরের পুরোনো মামলায় তিন সাবেক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ধারায় ৪৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সাবেক উচ্চমান সহকারী কাম-ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ হোসেন, সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কামরুল আলম ও সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী সাদিকুর রহমান খান। রায় ঘোষণার সময় তারা পলাতক ছিলেন।
দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি বলেন, ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মোহাম্মদ হোসেন, মো. কামরুল আলম ও সাদিকুর রহমান খানকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ৪২০ ধারায় প্রত্যেককে ৭ বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৪৬৭ ধারায় প্রত্যেককে ১০ বছর কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি জানান, এছাড়া, প্রত্যেককে ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় ৫ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, ৪৭৭(এ) ধারায় পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ৭ বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মোট ৪৪ বছর কারাদণ্ড হলেও সব কারাদণ্ড একসঙ্গে কার্যকর হবে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে বিটিটিবি’র বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় মোহাম্মদ হোসেন ২৪টি চেকের অঙ্ক পরিবর্তন ও জালিয়াতির মাধ্যমে অনুমোদিত অর্থের অতিরিক্ত এক কোটি ৬৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। ওই অর্থ ক্যাশবুকে প্রদর্শন কিংবা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি।
এ কাজে তৎকালীন বিভাগীয় প্রকৌশলী কামরুল আলম ও সাদিকুর রহমান খান সহযোগিতা করেন বলে তদন্তে উঠে আসে। এ ঘটনায় ১৯৯৯ সালের ৩১ অক্টোবর নগরের ডবলমুরিং থানায় মামলা হয়। পরে দুদকের তদন্ত শেষে ২০১৩ সালে তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ২০১৪ সালের ৮ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।