বিড়ির শুল্ক বৃদ্ধি না করায় প্রধানমন্ত্রীকে শ্রমিকদের ধন্যবাদ ও দোয়া

বিড়ির শুল্ক বৃদ্ধি না করায় প্রধানমন্ত্রীকে শ্রমিকদের ধন্যবাদ ও দোয়া

ছবি: প্রতিনিধি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিড়ি শিল্পে শুল্ক বৃদ্ধি না করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন। প্রস্তাবিত বাজেটকে গণমুখী ও বাস্তবভিত্তিক আখ্যা দিয়ে বুধবার বেলা ১১টায় পাবনা বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যলয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। সংবাদ সম্মেলন থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও দোয়া করেন বিড়ি শ্রমিকরা।

পাবনা জেলা বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শামিম ইসলামের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হারিক হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিড়ি শিল্প দেশের প্রাচীন শ্রমঘন একটি শিল্প। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিড়িতে কোনো শুল্ক ছিল না এবং এটি কুটির শিল্প হিসেবে পরিচিত ছিল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন আমলকে 'বিড়ি শিল্পের স্বর্ণযুগ' মনে করতেন শ্রমিকরা। জিয়াউর রহমান বাজেটের সময় স্পষ্টভাবে বলতেন, "বিড়ি হলো গরিব মানুষের সিগারেট। যারা দিনমজুর বা রিকশাচালক, তাদের বিনোদনের উপায় খুব সীমিত। তাই বিড়ির ওপর ট্যাক্স বাড়িয়ে তাদের ওপর চাপ বাড়ানো যাবে না।" শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিড়ি শ্রমিকদের কর্ম রক্ষার্থে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ির শুল্ক বৃদ্ধি না করায় দোয়া ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

হারিক হোসেন আরো বলেন, বর্তমানে টোব্যাকো মার্কেটের ৮০ শতাংশ থেকে ৮৫ শতাংশ দখল করে আছে বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানীর নিম্নস্তরের সিগারেট। তারা এদেশের মানুষের ফুসফুস পুড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। সুতরাং বিড়ি শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষার্থে বহুজাতিক কোম্পানীর নিম্নস্তরের সিগারেট বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। শ্রমিকরাই দেশের মূল চালিকা শক্তি, শ্রমিকরাই দেশের অর্থনীতির ভিত। সুতরাং শ্রমজীবি মানুষের স্বার্থে বিড়ি শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধি করার অনুরোধ করছি। এছাড়া দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধশালী করতে হলে নকল বিড়ি উৎপাদন এবং বিক্রি বন্ধ বন্ধ করতে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিড়ির শুল্ক অপরিবর্তীত রাখাসহ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০ টি পণ্যে করছাড় দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান শ্রমিকরা। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন, পাবনা জেলা বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি রাণী খাতুন, যুগ্ম সম্পাদক রমজান আলী, প্রচার সম্পাদক দুলাল মোল্ল্যা, সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল শেখ, কোষাধ্যক্ষ টোকন রায়, শ্রম সম্পাদক চামেলি খাতুন প্রমূখ।