বিরোধীদল সেই সংস্কারের কথা বলে, যে সংস্কার তাদের ক্ষমতার ভাগ দেবে’

বিরোধীদল সেই সংস্কারের কথা বলে, যে সংস্কার তাদের ক্ষমতার ভাগ দেবে’

প্রতিকি ছবি

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম. এ. মুহিত বলেছেন, বিরোধীদল মাঝেমধ্যেই সংস্কারের কথা বলে, জুলাই সনদের কথা বলে। কিন্তু তারা শুধু সেই সংস্কারের কথা বলে, যে সংস্কার তাদের ক্ষমতার ভাগ দেবে। স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার নিয়ে তারা আজ পর্যন্ত একদিনও কথা বলেনি।

রবিবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম কার্যদিবসে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোন প্রেক্ষাপটে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, তা আমরা সবাই জানি। বিগত ১৫ বছরের দুঃশাসনে আমাদের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। একটি গণআন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে।

তাই এই সংসদের প্রতি দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সেই প্রত্যাশা পূরণ করা সরকারের দায়িত্ব।

ডা. এম. এ. মুহিত বলেন, আমি স্বাস্থ্যখাতের বাজেট নিয়ে আমার বক্তব্যকে কেন্দ্রভিত্তিক রাখতে চাই। বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের বলব, শুধু তর্ক বা সমালোচনার জন্য নয়, আসুন আলোচনায় বসি।

আমরা একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করি।

তিনি বলেন, এই স্বাস্থ্য বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা পাবেন। অর্থাৎ একটি সহজপ্রাপ্য, সাশ্রয়ী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে যেখানে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকা, এবার তা বাড়িয়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।

এই বিনিয়োগের উদ্দেশ্য শুধু হাসপাতাল নির্মাণ বা সাময়িক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন নয়। স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ মানুষের গড় আয়ু বাড়ায়, সুস্থ জীবন নিশ্চিত করে, দারিদ্র্য কমাতে সহায়তা করে এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী গড়ে তোলে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ মানুষের সার্বিক কল্যাণ ও সুখ নিশ্চিত করে, সমাজে বৈষম্য কমায় এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।

দেশের স্বাস্থ্যখাতের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে ডা. মুহিত বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগসহ দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগে মানুষ মারা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় অতিমারি ও মহামারির ঝুঁকি, দ্রুত নগরায়ণ এবং প্রযুক্তির অগ্রগতি স্বাস্থ্যখাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর করতে হবে।

চিকিৎসা ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশে চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশই রোগীকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হয়। অথচ থাইল্যান্ডে এ হার মাত্র ১০ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ শতাংশ। আমাদের লক্ষ্য হবে এই ব্যয় কমিয়ে মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করা।

বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল মাঝেমধ্যেই সংস্কারের কথা বলে, জুলাই সনদের কথা বলে। কিন্তু তারা স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে কখনো আলোচনা করেনি। আমি খুশি হতাম, যদি তারা সেই প্রতিবেদনের আলোকে সংসদে আলোচনা করতেন।

তিনি বলেন, আমরা স্বাস্থ্যব্যবস্থার পুনর্গঠন ও সংস্কার চাই। এজন্য স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, চিকিৎসা পদ্ধতি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, বিকেন্দ্রীকরণ এবং ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।