ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১১ পরামর্শ রাজউকের

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১১ পরামর্শ রাজউকের

ফাইল ছবি

ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ও এডিস মশার বিস্তার রোধে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) একটি জরুরি সচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে নাগরিক ও ভবন মালিকদের জন্য ১১টি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে ভবনের চারপাশ পরিষ্কার রাখা থেকে শুরু করে নির্মাণাধীন ভবনে পানি জমে থাকা বন্ধ করতে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাজউকের দেওয়া ১১টি প্রধান পরামর্শ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. চারপাশ পরিষ্কার রাখা: নিজের বাড়িঘর, বাগান এবং নির্মাণাধীন বা নির্মিত ভবনের চারপাশ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
২. কিউরিংয়ের পানি পরিবর্তন: নির্মাণাধীন ভবনে কিউরিং করার সময় পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। জমে থাকা পানি প্রতি ২ (দুই) দিন পরপর অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে।
৩. সব ধরনের ভবনে পরিচ্ছন্নতা: সরকারি, বেসরকারি, মালিকানাধীন কিংবা ডেভেলপার কর্তৃক নির্মাণাধীন বা নির্মিত ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড (ভূ-গর্ভস্থ তল), ভবনের অভ্যন্তর, বারান্দা, উন্মুক্ত পানির হাউজ, ভেতরের খোলা ড্রেন এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
৪. মশানিরোধক নেট ব্যবহার: নির্মাণাধীন ও নির্মিত উভয় ধরনের ভবনের দরজা এবং জানালায় মশা আটকানোর জন্য নেট বা জাল ব্যবহার করতে হবে।
৫. পাত্রে পানি জমতে না দেওয়া: ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, ভাঙা হাঁড়ি-পাতিল, বালতি কিংবা যেকোনো কনটেইনারে যেন কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
৬. এসি ও ফ্রিজের পানি অপসারণ: স্প্লিট এসির ইনডোর ইউনিট এবং ফ্রিজের নিচে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার ও অপসারণ করতে হবে।
৭. জলাবদ্ধতা রোধ: ভবনের বা ইমারতের ভেতরে এবং আশপাশে যাতে কোনো ধরনের পানি জমে থাকতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
৮. লার্ভা ধ্বংস করা: যেসব ডোবা, নালা বা নর্দমায় মাছ কিংবা অন্য কোনো জীবন্ত প্রাণী নেই, সেখানে নিয়মিত মশক নিধন ওষুধ ছিটিয়ে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে হবে।
৯. পানির ট্যাংক ঢেকে রাখা: ভবনের ছাদের ওভারহেড ট্যাংক এবং মাটির নিচের আন্ডারগ্রাউন্ড পানির রিজার্ভারের মুখ সবসময় শক্তভাবে ঢেকে রাখতে হবে।
১০. পানির উৎস বন্ধ করা: যেসব স্থানে এডিস মশা ডিম পাড়তে বা জন্মাতে পারে, সেসব জায়গায় কোনো অবস্থাতেই পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
১১. ঘরের ভেতরের যত্ন: ঘরের ভেতরে ঝুলিয়ে রাখা জিনিসপত্র, আসবাবপত্রের নিচের অংশ এবং ঘরের অন্ধকার কোণগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা শহরকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে এবং এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করতে এই নির্দেশনাগুলো মেনে চলা প্রতিটি নগরবাসীর নাগরিক দায়িত্ব। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।