পাকিস্তানি নারীদের হাতে তৈরি বলে খেলা হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল
ফাইল ফটো
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটি গোল, পেনাল্টি আর শেষ মুহূর্তের জয়সূচক শট—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে পাকিস্তানের তৈরি ফুটবল। বিশ্বের অন্যতম জমকালো এই টুর্নামেন্টে ব্যবহৃত 'ট্রিওন্ডা' (Trionda) বলটি তৈরি হয়েছে পাকিস্তানের শিয়ালকোট শহরে। যদিও বিশ্বকাপ ফুটবলে পাকিস্তানের জাতীয় দলের অংশগ্রহণ নেই, কিন্তু দেশটির তৈরি বল ছাড়া ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মহোৎসব যেন অপূর্ণ।
ফুটবলের কারখানা: শিয়ালকোট
পাকিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর শিয়ালকোট বিশ্বজুড়ে 'ফুটবলের কারখানা' হিসেবে পরিচিত। সারা বিশ্বে ব্যবহৃত মোট ফুটবলের প্রায় ৭০ শতাংশই এই শহর থেকে তৈরি হয়। ১৯১২ সাল থেকে শিয়ালকোটে ফুটবল তৈরির ঐতিহ্য চলে আসছে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি বিশাল রফতানি শিল্পে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন এই শহর থেকে প্রায় তিন লাখ বল সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
যেভাবে শুরু হয়েছিল এই পথচলা
এই বল তৈরির নেপথ্যে রয়েছেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার খাজা মাসুদ আখতার। ১৯৯১ সালে মাত্র ২০ জন কর্মী এবং একটি ছোট রুম নিয়ে তিনি 'ফরোয়ার্ড স্পোর্টস প্রাইভেট লিমিটেড' প্রতিষ্ঠা করেন। তার তৈরি কোম্পানি ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ, ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ এবং এখন ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য অফিসিয়াল ম্যাচ বল তৈরি করে আসছে। ১৯৯৪ সালে অ্যাডিডাসের সঙ্গে অংশীদারিত্ব হওয়ার পর থেকে কোম্পানিটি আর পেছনে ফিরে তাকায়নি।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বিশ্বমানের বল
ফরোয়ার্ড স্পোর্টস শুধু হাতে সেলাই করা বলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা প্রযুক্তিতেও বিনিয়োগ করেছে। থার্মো-বন্ডিং প্রযুক্তি থেকে শুরু করে লেজার-কাটিং সিস্টেম এবং সেন্সর-যুক্ত বল তৈরির মাধ্যমে তারা আধুনিক ফুটবল শিল্পের মান বজায় রাখছে।
ইন্টারনেটে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পাকিস্তানের শিয়ালকোট বিভিন্ন বিশ্বকাপের ম্যাচ বল তৈরির বিশ্বস্ত স্থান হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।
বিশ্বের বড় বড় টুর্নামেন্টের বল তৈরির এই সাফল্যে নারীদের ভূমিকাও অপরিসীম। কারখানায় কাজ করা দক্ষ নারী কর্মীদের নিখুঁত কারুকার্যের কারণেই আজ বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের বলের এতো কদর। পাকিস্তানের এই অর্জন প্রমাণ করে যে, ইচ্ছা ও পরিশ্রম থাকলে যেকোনো অসাধ্য সাধন করা সম্ভব।