ফরম পূরণের নামে প্রতারণা, এইচএসসি দেওয়া হলো না ১২ শিক্ষার্থীর

ফরম পূরণের নামে প্রতারণা, এইচএসসি দেওয়া হলো না ১২ শিক্ষার্থীর

ছবি: সংগৃহীত

ফরম পূরণ ও প্রবেশপত্র এনে দেওয়ার আশ্বাসে কলেজকর্মীদের হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশ্বাসই পরিণত হয়েছে প্রতারণায়। প্রবেশপত্র না পাওয়ায় চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বগুড়া ও ময়মনসিংহের দুটি কলেজের অন্তত ১২ শিক্ষার্থী। দুই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কলেজের এক খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর ও এক পিয়নের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। তবে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষার্থী এবং ময়মনসিংহের নান্দাইল শহীদ স্মৃতি আদর্শ ডিগ্রি কলেজের দুই ছাত্রী প্রবেশপত্র না পাওয়ায় পরীক্ষাকেন্দ্রে অংশ নিতে পারেননি।

বগুড়ায় ভুক্তভোগীরা জানান, নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ করতে না পারা মানবিক বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন কলেজের খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন। প্রায় দুই মাস আগে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চার হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা করে নেন।

গত ২৪ জুন অন্য শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড বিতরণ করা হলেও ওই ১০ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়নি। তখন শাওন দেরিতে ফরম পূরণের কারণে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানান। পরে ৩০ জুন ও ১ জুলাই প্রবেশপত্র দেওয়ার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে ১ জুলাই রাত থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা দিতে না পেরে শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনে অবস্থান নেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সম্রাট সরকার বলেন, কলেজের কর্মী পরিচয়ে শাওন তাঁদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সব ব্যবস্থা করবেন। সেই বিশ্বাসেই তাঁরা টাকা দিয়েছিলেন। আরেক শিক্ষার্থী মো. হাসর বলেন, অভিযুক্ত কর্মী শিক্ষা বোর্ডে থাকার ভিডিও পাঠিয়েও তাঁদের আশ্বস্ত করেছিলেন।

মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান বলেন, বিষয়টি তাঁরা একেবারে শেষ মুহূর্তে জানতে পেরেছেন। কলেজে ফরম পূরণের সব লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে হয়, হাতে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহের নান্দাইল শহীদ স্মৃতি আদর্শ ডিগ্রি কলেজের দুই ছাত্রী মনিমুক্তা আক্তার ও ইসমাত আরা বেগম অভিযোগ করেন, নির্বাচনী পরীক্ষায় দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় কলেজ তাঁদের ফরম পূরণের সুযোগ দেয়নি। পরে কলেজের পিয়ন মো. শাহজাহান শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে ফরম পূরণ ও প্রবেশপত্র এনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে মোট ২২ হাজার ৪০০ টাকা নেন। একই সঙ্গে বিষয়টি কাউকে না জানানোরও শর্ত দেন।

পরীক্ষার আগে অন্য শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র পেলেও তাদের নামে কোনো প্রবেশপত্র আসেনি। এরপরও শাহজাহান শিক্ষা বোর্ডে লোক পাঠানোর কথা বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে কলেজে এসে বারবার ফোন করেও তাঁর কোনো সাড়া না পেয়ে দুই ছাত্রী কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে কলেজেও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নান্দাইল শহীদ স্মৃতি আদর্শ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইনামুল হক বলেন, শাহজাহান কলেজের পিয়ন হলেও ফরম পূরণ করে দেওয়ার কোনো দায়িত্ব তাঁর ছিল না। লিখিত অভিযোগ পেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।