১১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করলেন বাবা

১১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করলেন বাবা

ফাইল ছবি

ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সুমন শেখ (২০) হত্যার ঘটনায় একদিন পর ভাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে নিহত সুমন শেখের বাবা মিলন শেখ বাদী হয়ে ছেলে হত্যার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন।

ভাঙ্গা থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৩০-৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে এক নম্বরে রয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব, হাসামদিয়া মহল্লার বাসিন্দা সজীব মাতুব্বর (২৯)।

নিহত সুমন শেখের বাড়ি ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লায়। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা মিলন শেখ ও সামেলা বেগমের ছেলে।

এদিকে, ভাঙ্গার সার্বিক পরিস্থিতি এখনও থমথমে। মামলার পর গ্রেপ্তার এড়াতে হাসামদিয়া ও আতাদি মহল্লা প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশের টহলও জোরদার করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহত সুমনের মা সামেলা বেগম বলেন, সজীব মাতুব্বরসহ যারা আমার ছেলে সুমনকে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। আর কোনো মাকে যেন আমার মতো সন্তানহত্যার শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।

বুধবার রাত ৯টার দিকে ভাঙ্গা ঈদগাহ মসজিদে সুমন শেখের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ঈদগাহ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় স্থানীয়রা সুমন হত্যার বিচার দাবিতে বুধবার রাতে প্রায় আধা ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ সময় কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে সুমন শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। হত্যা মামলায় আসামি হওয়ার বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সজীব মাতুব্বরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভাঙ্গা থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সুমন শেখ নামে এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।