খামেনির জানাজায় থাকছে না সৌদি প্রতিনিধি

খামেনির জানাজায় থাকছে না সৌদি প্রতিনিধি

ছবিঃ সংগৃহীত।

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনে সৌদির অনুপস্থিতি নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) হাউস অব সৌদ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক বছর আগে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ইরানে গিয়ে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন। সে সফরকে সৌদি-ইরান সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চললেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামরিক উত্তেজনা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ইয়েমেনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ বিরোধও অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ও মধ্যস্থতা প্রক্রিয়াও বর্তমানে স্থবির।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সফর ও ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচিও ইরানে সফরের সম্ভাবনা সীমিত করেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, সৌদি আরবের এই অনুপস্থিতি কেবল আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান কৌশলগত ভারসাম্য ও আস্থার সংকটেরও প্রতিফলন। একদিকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক—দুই দিকই বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে রিয়াদকে।

এদিকে, ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ৩ জুলাই বিদেশি অতিথিদের জন্য বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠান ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত তেহরান, কোম, মাশহাদ, নাজাফ ও কারবালায় চলবে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট সালোমে জুরাবিশভিলি এবং চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হে ওয়েইয়ের। ভারত থেকেও একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিহারের গভর্নর প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন।