রাতারাতি ঝকঝকে দাঁত? জেনে নিন বিজ্ঞাপনের আড়ালের সত্য
ফাইল ছবি
বিলবোর্ড, টেলিভিশন, ইউটিউব কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সবকিছু এখন ছেয়ে আছে ঝকঝকে সাদা দাঁতের বিজ্ঞাপন। এসব বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়, মাত্র ৭ দিন ব্যবহারেই দাঁত ঝকঝকে হবে। এবার আরও লোভনীয় বিজ্ঞাপন চোখে পড়ছে বিভিন্ন মমাধ্যমে। তাতে বলা হচ্ছে, বেগুনি টুথপেস্টের কথা। যা রাতারাতি ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে। প্রস্তুতকারীদের দাবি, বেগুনি রঙের এই টুথপেস্টের প্রলেপ একবার দাঁতে পড়া মাত্রই আপনার দাঁতের হলদেটে ছোপ উধাও হয়ে দাঁত হবে পরিষ্কার।
এই টুথপেস্টের বিজ্ঞাপন সামনের আসার পরেই এটা দিয়ে দাঁত মাজার হিড়িক লেগেছে। ঝকঝকে দাঁতের আশায় অনেকে তা ব্যবহার করা শুরু করেছেন। তবে এমন টুথপেস্ট আদৌ দাঁতের জন্য স্বাস্থ্যকর কি না এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।
ভাইরাল বেগুনি টুথপেস্ট
চলুন বেগুনি টুথপেস্ট সম্পর্কে জেনে নিই-
দেখতে সাধারণ টুথপেস্টের মতোই এটি। এটিকে টুথপেস্ট না বলে বরং এক প্রকার দাঁতের প্রসাধনীই বলা যায়। দন্ত চিকিৎসকেরা বলছেন, এটি মূলত ‘কসমেটিক কালার কারেক্টর’ যা ব্যবহার করলে নিমেষেই দাঁতের হলদেটে বা কালচে ছোপ ঢেকে যাবে এবং দাঁত হবে সাদা ও ঝকঝকে। তবে তা হবে সাময়িকভাবে।
মূলত পার্টি, বিয়েবাড়ি বা কোনও নিমন্ত্রণকে মাথায় রেখে এই টুথপেস্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে এটি দিয়ে একবার দাঁত মেজে নিলেই, দাঁত ঝকঝকে দেখাবে। মুখের দাগ ঢাকতে যেমন কনসিলার ব্যবহার করা হয়, তেমনই দাঁতের জন্য রয়েছে এই বেগুনি টুথপেস্ট। তাই অনেকেই এটিকে দাঁতের কনসিলার বলছেন।
কতটা নিরাপদ এই বেগুনি টুথপেস্ট?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের টুথপেস্ট প্রসাধনীর মতো মাঝেমধ্যে ব্যবহার করা নিরাপদ। তবে প্রতিদিন ব্যবহারে দাঁতের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েতে পারে।
দন্ত কিৎসকদের মতে, এই ধরনের টুথপেস্টে এমন কিছু রাসায়নিক ও কৃত্রিম রঙ মেশানো হয় যা দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে যেতে পারে। সংক্রমণ হতে পারে মাড়িতেও।
কতটা নিরাপদ এই বেগুনি টুথপেস্ট?
টুথপেস্টের রঙ বেগুনি কেন?
টুথপেস্টের রঙের বেগুনি হওয়ার কারণ হলো এতে থাকা ‘ব্লু-১’ এবং ‘রেড-৩৩’ রাসায়নিক। এ ধরনের রাসায়নিক দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে গেলে লিভার ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে। এতে থাকে হাইড্রেটেড সিলিকা বা অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড ও ক্যালশিয়াম কারবোনেটের গুঁড়া যা দাঁতের ময়লা ঘষে তুলতে সাহায্য করে। এই উপাদানগুলো দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে ভূমিকা রাখে।
পেস্টটি যাতে শুকিয়ে না যায় সে কারণে থাকে গ্লিসারিন ও সরবিটল। ফেনা তৈরির জন্য থাকে সোডিয়াম লরিল সালফেট (এসএলএস) যা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করলে মাড়ির কোষ ক্ষয়ে যেতে পারে। এর থেকে মুখে ঘা, ফোস্কা বা আলসারের আশঙ্কাও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।
টুথপেস্টের স্বাদ ভালো করার জন্য এতে নানা রকম কৃত্রিম ফ্লেভার ও কৃত্রিম মিষ্টিও মেশানো হয়।
তাই এই টুথপেস্ট সাময়িকভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া, সুস্থ দাঁত ও মাড়ির জন্য ফ্লুয়োরাইড, পটাশিয়াম নাইট্রেট বা স্ট্রনসিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা উচিত।