প্যাকেটজাত খাবার কতটা স্বাস্থ্যসম্মত?

প্যাকেটজাত খাবার কতটা স্বাস্থ্যসম্মত?

ফাইল ছবি

সময়ের সঙ্গে আমাদের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্যাকেটজাত খাবারের ওপর নির্ভরশীলতা। এসব খাবারের প্যাকেটে যদিও ‘স্বাস্থ্যসম্মত’ শব্দটা লেখা থাকে। তারপরও এসব খাবার কতটা স্বাস্থ্যসম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে প্রক্রিয়াজাত খাবার মানেই যে ক্ষতিকর নয় সেটি নিশ্চিত করেছেন এক দল গবেষক। তাদের মতে, প্যাকেটজাত খাবারটি কীভাবে তৈরি হচ্ছে এবং এর পুষ্টিগুণের মান কেমন সেটির ওপর নির্ভর করে সে খাবার স্বাস্থ্যসম্মত কি না। আর সেটি জানা যায় ‘নোভা ক্লাসিফিকেশন সিস্টেম’ ব্যবহার করে।

প্রক্রিয়াজাত খাবার চিপস

২০০৯ সালে ব্রাজিলের ইউনিভার্সিটি অফ সাও পালোর গবেষকরা প্রথম ‘নোভা ক্লাসিফিকেশন সিস্টেম’ ব্যবহার করেন। এই নিয়ম অনুযায়ী খাবারকে ৪ ভাগে ভাগ করেছেন তারা। এগুলো হলো-

অপ্রক্রিয়াজাত বা ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত:  মূলত টাটকা খাবার। যেমন: ফলমূল, শাকসব্জি, ওটস, মাছ, মাংস ও ডিম।

রান্নার উপাদান:  তেল, মাখন, চিনি ও লবন।

প্রক্রিয়াজাত: হালকা প্রক্রিয়াজাত খাবার যেগুলো মূলত সাধারণ উপায়ে তৈরি করা হয়। যেমন-পাউরুটি বা টিনজাত মাছ ও সবজি। 

 নাস্তা হিসেবে জনপ্রিয় সিরিয়াল

অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত: চিপস, কোমল পানীয়, বার্গার, সসেজের মতো কারখানায় তৈরি কৃত্রিম উপাদানযুক্ত খাবার। এগুলো তৈরিতে প্রচুর চিনি, লবন, কৃত্রিম রং, গন্ধ ও রাসায়নিক মেশানো হয় বলে এই ক্যাটাগরির খাবারকে সবচেয়ে বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনেক সময় আমরা স্বাস্থ্যকর ভেবে যেসব খাবার খাই সেগুলোর মধ্যেও বিপজ্জনক খাবার রয়েছে। যেমন- কৃত্রিম গন্ধ যুক্ত ওটস দুধ, মসলা ওটস কিংবা ফ্লেভারড ইয়োগার্ট। এমনকি সকালের নাস্তায় খাওয়া সিরিয়াল কিংবা প্যাকেটজাত মাংসের অবস্থাও একই। স্বাদ বাড়াতে সেগুলোতে অতিরিক্ত মিষ্টি ও রাসায়নিক মেশানো হয়।
নিয়মিত অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে স্থূলতার ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। এমনকি এতে ডায়াবেটিস, লিভার, কিডনির সমস্যা, এমনকি হৃদরোগও হতে পারে।

প্রক্রিয়াজাত খাবার

তবে, বাস্তবতা হলো, কর্মব্যস্ত জীবনে চাইলেই সব ধরনের প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। চাইলে সতর্ক হওয়া যায়। তাই দৈনন্দিন খাদ্যা তালিকায় কৃত্রিম খাবারের বদলে টাটকা শাকসবজি, ভাত, রুটি, ফলমূল এবং ঘরে তৈরি স্বাস্থকর খাবার খেতে পারেন।