বিশ্বকাপের সবচেয়ে বাচাল কোচ
ফাইল ছবি
বিশ্বকাপের ডাগআউটে সাধারণত দেখা যায় গম্ভীর মুখ, চিন্তায় কুঁচকে যাওয়া কপাল আর কঠিন রণকৌশল। কিন্তু নরওয়ের কোচ স্তালে সোলবাকেন যেন সেই ছবিটা একেবারে বদলে দিয়েছেন। হাসি-ঠাট্টা, রসিকতা আর খোলামেলা কথায় তিনি পুরো টুর্নামেন্টকে অন্যরকম আনন্দ দিয়ে চলেছেন। ৫৮ বছরের এই কোচ দেখতে যেমন শক্তসমর্থ ভাইকিং, মেজাজও তেমনই প্রাণবন্ত। তাঁর মজার কথা আর কাণ্ডকারখানা নিয়ে বিশ্বকাপে এখন ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে ঘুরছে বাচাল কোচ।
আগামী রোববার শেষ ষোলোয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে নরওয়ে। ম্যাচের আগেই সোলবাকেন খবরের শিরোনামে চলে এসেছেন। আইভরি কোস্টকে হারানোর পর ড্রেসিংরুমে চিৎকার করে বলেছিলেন, 'কার্লো আনচেলত্তি, তৈরি হয়ে নাও। আমরা তোমার পেছনেই আসছি!'
পরদিন সংবাদ সম্মেলনে হাসতে হাসতে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করেন। বলেন, 'ওটা কোনো সস্তা প্ররোচনা নয়। আনচেলত্তি ইউরোপের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কোচ। তাঁর বিপক্ষে খেলাটা আমার জন্য বিশাল আনন্দের।'
ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় প্রায় পুরো মূল দলকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন সোলবাকেন। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করায় তিনি সোজা বলে দেন, 'সমর্থকরা চিন্তায় আছেন জানি। কিন্তু আমরা শুধু মজা করতে আসিনি। যতদূর সম্ভব যেতে চাই। তাই বোকার মতো খেলে সব নষ্ট করার দরকার নেই।'
অনুশীলনে আর্লিং হলান্ডের একটি দারুণ ভলি গোল দেখে কোচ মজা করে বলেন, 'শটটা যদি ক্যামেরায় ধরা পড়ত, তাহলে এটাই হতো বিশ্বকাপের বর্ষসেরা গোল। আর যদি গোলরক্ষক সেলভিকের গায়ে লাগত, তাহলে সে ওখানেই শেষ! ভাগ্যিস বল জালে গিয়েছে।'
একবার স্ট্রাইকার জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন জ্বর নিয়ে অনুশীলন মিস করলে সোলবাকেন সংবাদ সম্মেলনে হেসে বলেন, 'সামান্য জ্বর সহ্য করতে না পারলে তো বাড়ি পাঠিয়ে দিতে হয়। আমি আমার বাচ্চাদেরও এভাবেই জ্বর কমাই।'
ইরাককে বড় ব্যবধানে হারানোর পর দলকে দুই দিনের ছুটি দেন তিনি। কারণ জানাতে গিয়ে বলেন, 'ওরা অনেকদিন ধরে আমার সঙ্গে আছে। এখন কয়েকদিন আমার কুৎসিত মুখ না দেখলে ওদের ভালো লাগবে। গলফ খেলতে চাইলে কোনো সমস্যা নেই।'
ছুটির দিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আড্ডায় বসে তিনি রসিকতা করেন, 'আমি মনে মনে প্রার্থনা করছি, আমার স্ত্রী অ্যানিকেনের ফ্লাইট যেন একটু দেরি করে। তাহলে ইংল্যান্ড ম্যাচটা শান্তিতে দেখতে পাব।'
আর সেনেগালের বিপক্ষে জয়ের পর? গ্যালারিতে দৌড়ে গিয়ে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছেন সোলবাকেন। পরে বলেছেন, 'এটা ছিল খাঁটি ভালোবাসা।' একই ম্যাচের পর মাঠের মাঝখানে হালান্ডের পেছনে বসে দর্শকদের সঙ্গে ভাইকিং রোয়িং করতেও দেখা গেছে তাঁকে।
গম্ভীরতার বাইরে এমন প্রাণোচ্ছল কোচ দেখা যায় না প্রায়ই। স্তালে সোলবাকেন তাই চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা বিনোদন হয়ে উঠেছেন।