ক্রোয়েশিয়ার বাতিল গোল নিয়ে ফিফার ব্যাখ্যা
ফাইল ছবি।
বিশ্বকাপ থেকে ক্রোয়েশিয়ার বিদায় এবং পর্তুগালের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত হওয়া নিয়ে ফুটবল বিশ্বে চলছে তুমুল আলোচনা। পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার সমতাসূচক গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়া নিয়েই মূলত এই বিতর্কের সৃষ্টি।
তবে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্ত শতভাগ সঠিক ছিল। এই নিখুঁত সিদ্ধান্তে মাঠের রেফারিকে সাহায্য করেছে বিশ্বকাপে ব্যবহৃত অফিশিয়াল বলের ভেতরের অত্যাধুনিক ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’।
ম্যাচের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গনসালো রামোসের দুর্দান্ত হেডে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। মরিয়া ক্রোয়েশিয়া তখন সমতায় ফিরতে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। ম্যাচের ঠিক শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে ইওস্কো গাভার্দিওল বল জালে জড়ালে বুনো উল্লাসে মাতেন ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলাররা। মাঠের রেফারিও শুরুতে এটিকে বৈধ গোল হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির চুলচেরা বিশ্লেষণে শেষ পর্যন্ত গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
কেন বাতিল হলো গোলটি?
সমালোচনার মুখে এর ব্যাখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ফিফা জানায়, ‘অ্যাডিডাস ত্রিওনদা ম্যাচ বলের ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোলের আগে ক্রোয়েশিয়ার ২০ নম্বর খেলোয়াড় ইগর মাতানোভিচ বল স্পর্শ করেছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই রেফারি সঠিকভাবে অফসাইডের সিদ্ধান্ত নিয়ে গোলটি বাতিল করেন।’
প্রযুক্তির কার্যকারিতা আরও স্পষ্ট করে ফিফা যোগ করে, ‘ত্রিওনদা বলে থাকা আইএমইউ সেন্সর বলের সঙ্গে যেকোনো সামান্য সংস্পর্শও শনাক্ত করতে পারে। সম্প্রচারে এটি ‘হার্টবিট গ্রাফিক’ হিসেবে প্রদর্শিত হয়, যা ম্যাচ কর্মকর্তাদের দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।’
মূলত ইভান পেরিসিচের একটি ক্রস থেকে এই গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। বক্সের ভেতর পাঠানো বলটি রেনাতো ভেইগার গায়ে লেগে মারিও পাসালিচের কাছে পৌঁছায়। পাসালিচ বলটি বাড়িয়ে দিলে স্লাইড করে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন গাভার্দিওল। তবে টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি পাসালিচের কাছে যাওয়ার ঠিক আগে ক্রোয়েশিয়ার ইগর মাতানোভিচ হেড করার একটি চেষ্টা করেছিলেন। খালি চোখে মনে হচ্ছিল তিনি বলটি মিস করেছেন। যদি মাতানোভিচ সত্যিই বলে স্পর্শ না করতেন, তবে পাসালিচ অফসাইডে থাকতেন না এবং গোলটি সম্পূর্ণ বৈধ হতো।
এই জটিল পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি মাঠের নরওয়েজিয়ান রেফারি এসপেন এসকাসকে মনিটর দেখার অনুরোধ জানান। আর সেখানেই রেফারিকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল অ্যাডিডাস ‘ত্রিওনদা’ বল। বলের ভেতরে থাকা এই প্রযুক্তিটি—যা অনেকটা ক্রিকেটের ‘স্নিকো’ প্রযুক্তির মতো কাজ করে—তাতে দেখা যায়, মাতানোভিচের মাথায় বলটি খুব সামান্য হলেও স্পর্শ করেছিল।
বলের ভেতরের এই সূক্ষ্ম স্পর্শের কারণেই নিশ্চিত হওয়া যায়, পাসালিচ যখন বলটি পেয়েছিলেন, তখন তিনি অফসাইড পজিশনে ছিলেন। ফলে প্রযুক্তির সহায়তায় গাভার্দিওলের গোলটি বাতিল করতে বাধ্য হন রেফারি। আর এই একটি সিদ্ধান্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া; তাদের বিশ্বকাপ অভিযান সেখানেই শেষ হয়ে যায় এবং পর্তুগাল চলে যায় শেষ ষোলোতে।