জানা গেল খামেনিকে যেখানে দাফন করা হবে

জানা গেল খামেনিকে যেখানে দাফন করা হবে

‘মাশহাদে মোকাদ্দাস’ বা ‘পবিত্র মাশহাদ শহর’// ছবিঃ সংগৃহীত।

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে তার জন্মভূমি ‘মাশহাদ’ শহরে দাফন করা হবে। শিয়া মুসলমানদের কাছে এই মাশহাদ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটিকে ‘মাশহাদে মোকাদ্দাস’ বা ‘পবিত্র মাশহাদ শহর’ বলা হয়ে থাকে।

রেডিও তেহরানের সাংবাদিক নাসির মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, মাশহাদকে পবিত্র নগরী বলার মূল কারণ হলো- এখানে শিয়া মুসলমানদের অষ্টম ইমাম, হযরত ইমাম রেজা (আলাইহিস সালাম)-এর রওজা মোবারক বা সমাধিস্থল অবস্থিত।

শিয়া বিশ্বাস অনুযায়ী, ইমাম রেজাকে সেখানে বিষপানে হত্যা করা হয়েছিল এবং তিনি সেখানেই শহীদ হন। ‘মাশহাদ’ শব্দের অর্থই হলো ‘শহীদ হবার স্থান’ বা ‘শহীদদের স্থান’। একজন শহীদ ইমামের রওজা থাকার কারণেই এই শহরটিকে পবিত্র নগরী হিসেবে গণ্য করা হয়।

এদিকে খামেনির রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিয়ত প্রতিনিধিরা তেহরানে আসছেন। ইউরোপের দেশগুলো ছাড়া আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশেরই এখানে উপস্থিতি রয়েছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরান পৌঁছে শহীদ সর্বোচ্চ নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোনো প্রতিনিধি এসে পৌঁছাননি।

সাংবাদিক নাসির মাহমুদ আরও জানান, খামেনির কফিনের পাশাপাশি যে আরও ৪টি মরদেহ রয়েছে, তারা সবাই খামেনির পরিবারেরই সদস্য। খামেনি ছাড়া বাকি চারজন হলেন- তার এক কন্যা, নাতি, জামাতা এবং একটি শিশু। এই শোকানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সমগ্র তেহরান জুড়ে নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারিভাবে কোনো হামলার আশঙ্কার কথা জানানো না হলেও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার কারণে সেখানে বড় কোনো ঝুঁকির আশঙ্কা নেই বললেই চলে।